১/৭৫. অধ্যায়ঃ

মার্জনা করা এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলার বিবরণ

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴾ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ’রাফ ১৯৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿ فَٱصۡفَحِ ٱلصَّفۡحَ ٱلۡجَمِيلَ ﴾ [الحجر: ٨٥]অর্থাৎ “তুমি পরম সৌজন্যের সাথে তাদেরকে ক্ষমা কর।” (সূরা হিজর ৮৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ۖ وَلۡيَعۡفُواْ وَلۡيَصۡفَحُوٓاْۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ ﴾ [النور: ٢٢]অর্থাৎ “তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি মার্জনা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন?” (সূরা নূর ২২ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴾ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “(সেই ধর্মভীরুদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে,) ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴾ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শূরা ৪৩ আয়াত)

রূঢ় আচরণে কোমল জবাব: নবীজির ধৈর্যের হাদিস

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/৬৫০

وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنْتُ أَمشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانيٌّ غَلِيظُ الحَاشِيَةِ، فأدْرَكَهُ أعْرَابِيٌّ فَجَبذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَديدةً، فَنَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ أثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مُر لِي مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ . فَالتَفَتَ إِلَيْهِ، فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ . متفقٌ عَلَيْهِ

আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ

(একদা) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পথ চলছিলাম। সে সময় তাঁর উপর মোটা পেড়ে একখানি নাজরানী চাদর ছিল। অতঃপর পথে এক বেদুঈনের সঙ্গে দেখা হল। সে তাঁর চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। আমি নবী (ﷺ) এর কাঁধের এক পাশে দেখলাম যে, খুব জোরে টানার কারণে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। পুনরায় সে বলল, ’ওহে মুহাম্মাদ! তোমার নিকট আল্লাহর যে মাল আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার আদেশ কর।’ তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে হাসলেন। অতঃপর তাকে (কিছু মাল) দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৩১৪৯, ৫৮০৯, ৬০৮৮, মুসলিম ১০৫৭, ইবনু মাজাহ ৩৫৫৩, আহমাদ ১২১৩৯, ১২৭৮২, ১২৯২৬

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/৬৫০-এর সারসংক্ষেপ

আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে হাঁটছিলেন। নবীজির গায়ে মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিল। এক বেদুঈন এসে খুব জোরে চাদর টানল, এমনকি তাঁর কাঁধে দাগ পড়ে গেল। এরপর সে আল্লাহর মাল থেকে তাকে দেওয়ার আদেশ করতে বলল। এমন রূঢ় আচরণের পরও নবীজি তার দিকে ফিরে হাসলেন এবং তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এই হাদিস নবীজির ধৈর্য, নম্রতা ও মানুষের প্রয়োজন বোঝার দৃষ্টান্ত। তিনি অপমানের জবাবে অপমান করেননি। কষ্ট পেয়েও শান্ত থাকলেন। সহজ চরিত্র ও কোমল আচরণ এখানে স্পষ্ট। আমাদের জীবনে কেউ রূঢ় হলে সঙ্গে সঙ্গে রাগ দেখানো সহজ, কিন্তু নবীজির আদর্শ হলো নিজেকে সামলে সুন্দর জবাব দেওয়া।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রূঢ় আচরণের জবাবে ধৈর্য রাখা বড় গুণ।
  • প্রয়োজনে থাকা মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতা রাখা উচিত।
  • কষ্ট পেলেও প্রতিক্রিয়ায় কোমল থাকা নববী চরিত্র।
  • হাসিমুখে আচরণ অনেক কঠিন পরিস্থিতি সহজ করতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন