১/৭৪. অধ্যায়ঃ
সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা ও কোমলতার গুরুত্ব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ﴾ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “(সেই ধর্মভীরুদের জন্য বেহেশত প্রস্তুত রাখা হয়েছে যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে,) ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴾ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ’রাফ ১৯৯ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤ وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ٱلَّذِينَ صَبَرُواْ وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٖ ٣٥ ﴾ [فصلت: ٣٤، ٣٥]অর্থাৎ “ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা হা-মীম সিজদা ৩৪-৩৬ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴾ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শূরা ৪৩ আয়াত)
ইহসান ও দয়া: প্রতিটি কাজ সুন্দরভাবে করার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/৬৪৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৬৪৫
وَعَن أَبي يَعلَى شَدَّادِ بنِ أَوسٍ رضي الله عنه، عَن رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إنَّ الله كَتَبَ الإحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإذَا قَتَلْتُم فَأحْسِنُوا القِتْلَة، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأحْسِنُوا الذِّبْحَةَ، وَليُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَه، وَلْيُرِح ذَبِيحَتَهُ ». رواه مسلم
আবূ ইয়া’লা শাদ্দাদ ইবনে আওস রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’মহান আল্লাহ প্রতিটি কাজকে উত্তমরূপে (অথবা অনুগ্রহের সাথে) সম্পাদন করাটাকে ফরজ করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কাউকে) হত্যা করবে, তখন ভালভাবে হত্যা করো এবং যখন (পশু) জবাই করবে, তখন ভালভালে জবাই করো। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, সে যেন নিজ ছুরি ধারাল করে নেয় এবং যবেহযোগ্য পশুকে আরাম দেয়।’’ (অর্থাৎ জবাই-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে।) (মুসলিম) [১]
মুসলিম ১৯৫৫, তিরমিযী ১৪০৯, নাসায়ী ৪৪০৫, ৪৪১১, ৪৪১২, ৪৪১৩, ৪৪১৪, আবূ দাউদ ২৮১৫, ইবনু মাজাহ ৩১৭০, আহমাদ ১৬৬৬৪, ১৬৬৭৯, ১৫৬৮৯, দারেমী ১৯৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৬৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মহান আল্লাহ প্রতিটি কাজকে উত্তমভাবে সম্পাদন করাকে ফরজ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি হত্যা ও পশু জবাইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এ কাজগুলোও ভালোভাবে করতে হবে। বিশেষ করে জবাইয়ের সময় ছুরি ধারালো করা এবং জবাইযোগ্য পশুকে আরাম দেওয়া উচিত। এখানে মূল শিক্ষা হলো ইহসান, অর্থাৎ কাজ সুন্দরভাবে করা। ইসলামে দয়া শুধু কথায় নয়; কঠিন কাজের মধ্যেও দয়ার নিয়ম আছে। পশু জবাইয়ের মতো কাজে কষ্ট কমানো, প্রস্তুতি নেওয়া এবং কাজ দ্রুত সুন্দরভাবে শেষ করা হাদিসে এসেছে। তাই মুসলিমের আচরণে অযত্ন, কষ্ট দেওয়া বা অকারণ কঠোরতা থাকা উচিত নয়। প্রতিটি কাজেই দায়িত্ব, ন্যায় ও দয়ার ভাব থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিটি কাজ ভালোভাবে করা ইসলামী শিক্ষা।
- পশু জবাইয়ের সময় অকারণ কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচতে হবে।
- ছুরি ধারালো করা ও পশুকে আরাম দেওয়া হাদিসে এসেছে।
- ইহসান শুধু ইবাদতে নয়, দৈনন্দিন কাজেও প্রয়োজন।
