১/৭৩. অধ্যায়ঃ

সচ্চরিত্রতার মাহাত্ম্য

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٖ ٤ ﴾ [القلم: ٤]অর্থাৎ “তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা ক্বালাম ৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ ﴾ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “সেই দ্বীনদারদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)

নবীজির কোমলতা ও সচ্চরিত্রের বাস্তব উদাহরণ

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬২৭

وَعَنهُ، قَالَ: مَا مَسِسْتُ دِيبَاجاً وَلاَ حَرِيراً ألْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَلاَ شَمَمْتُ رَائِحَةً قَطُّ أطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَقَدْ خَدَمتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي قَطُّ: أُفٍّ، وَلاَ قَالَ لِشَيءٍ فَعَلْتُهُ: لِمَ فَعَلْتَه ؟ وَلاَ لشَيءٍ لَمْ أفعَلهُ: ألاَ فَعَلْتَ كَذَا ؟ متفقٌ عَلَيْهِ

সাবেক রাবী হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর করতল অপেক্ষা অধিকতর কোমল কোনো পুরু বা পাতলা রেশম আমি স্পর্শ করিনি। আর তাঁর শরীরের সুগন্ধ অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধ কোন বস্তু আমি কখনো শুঁকিনি। আর আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমত করেছি। তিনি কখনোও আমার জন্য ’উঃ’ শব্দ বলেননি। কোন কাজ করে বসলে তিনি এ কথা জিজ্ঞেস করেননি যে, ’তুমি এ কাজ কেন করলে?’ এবং কোন কাজ না করলে তিনি বলেননি যে, ’তা কেন করলে না?’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৩৫৪৭, ৩৫৪৮, ৩৫৫০, ৩৫৬১, ৩৫৮৯৪, ৫৮৯৫, ৫৯০০, ৫৯০৩, ৫৯০৪, ৫৯০৫, ৫৯০৬, ৫৯১২, ৫৯০৭, মুসলিম ২৩৩৮, ২৩৪১, ২৩৪৭, তিরমিযী ১৮৫৪, ৩৬২৩, নাসায়ী ৫০৫৩, ৫০৮৬, ৫০৮৭, ৫২৩৪, ৫২৩৫, আবূ দাউদ ৪১৮৫, ৪১৮৬, ইবনু মাজাহ ৩৬২৯, ৩৬৩৪, আহমাদ ১২৩৭৩, ১১৫৫৪, ১১৫৭৭, ১১৬৪২, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৩৪, ১৭০৭, দারেমী ৬১৬২

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬২৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চরিত্রের খুব সুন্দর একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, নবীজির হাতের কোমলতার মতো কিছু তিনি স্পর্শ করেননি এবং তাঁর শরীরের সুগন্ধের মতো কিছু তিনি শুঁকেননি। এরপর তিনি দশ বছর খিদমতের কথা বলেন। এত দীর্ঘ সময় সেবা করার পরও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কখনো ‘উঃ’ বলেননি। কোনো কাজ করলে “কেন করলে?” বলেননি, আর কোনো কাজ না করলে “কেন করলে না?” বলেননি। এই হাদিস “নবীজির কোমলতা” বোঝার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাছের মানুষ, সহকারী বা ছোটদের সঙ্গে ব্যবহারেই মানুষের আসল চরিত্র বোঝা যায়। নবীজি সেখানে ছিলেন কোমল, ধৈর্যশীল ও সুন্দর আচরণের আদর্শ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কাছের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা সুন্দর চরিত্রের বড় পরিচয়।
  • ভুল হলে কঠোর কথা না বলে কোমলভাবে আচরণ করা উত্তম।
  • দীর্ঘ সম্পর্কেও ধৈর্য ও সম্মান ধরে রাখা দরকার।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণ আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের আদর্শ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন