১/৭১. অধ্যায়ঃ
মু’মিনদের জন্য বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার গুরুত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, [ الشعراء : ٢١٥ ] ﴿ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴾অর্থাৎ, তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও । (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তাআলা বলেন,﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴾ [ المائدة : ٥٤ ]অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মাঈদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴾ [ الحجرات : ١٣ ]অর্থাৎ, হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন, [ النجم : ٣٢ ] ﴿ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴾অর্থাৎ, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ، أَهُؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴾ [ الأعراف : ٤٨-٤٩ ]অর্থাৎ, আ’রাফবাসিরা কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান ক’রে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। (বলা হবেঃ) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ ক’রে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। (সূরা আ'রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)
বিনয়ী আচরণ: গর্ব ও জুলুম থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৬০৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৬০৭
وَعَن عِيَاضِ بنِ حِمَارٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّ الله أوْحَى إِلَيَّ أنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَفْخَرَ أحَدٌ عَلَى أحَدٍ، وَلاَ يَبْغِي أحَدٌ عَلَى أحَدٍ ». رواه مسلم
‘ইয়ায ইবনে হিমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহ বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “তুমি তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি সদয় হও।” (সূরা শু’আরা ২১৫ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرۡتَدَّ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَسَوۡفَ يَأۡتِي ٱللَّهُ بِقَوۡمٖ يُحِبُّهُمۡ وَيُحِبُّونَهُۥٓ أَذِلَّةٍ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ﴾ [المائدة: ٥٤]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ দ্বীন থেকে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে মুমিনদের প্রতি কোমল ও কাফিরদের প্রতি কঠোর।” (সূরা মাইদাহ ৫৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقۡنَٰكُم مِّن ذَكَرٖ وَأُنثَىٰ وَجَعَلۡنَٰكُمۡ شُعُوبٗا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓاْۚ إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡۚ﴾ [الحجرات: ١٣]অর্থাৎ “হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক আল্লাহ-ভীরু।” (সূরা হুজরাত ১৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿فَلَا تُزَكُّوٓاْ أَنفُسَكُمۡۖ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ﴾ [النجم: ٣٢]অর্থাৎ “তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে।” (সূরা নাজ্ম ৩২আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿ وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلۡأَعۡرَافِ رِجَالٗا يَعۡرِفُونَهُم بِسِيمَىٰهُمۡ قَالُواْ مَآ أَغۡنَىٰ عَنكُمۡ جَمۡعُكُمۡ وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُونَ ٤٨ أَهَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ أَقۡسَمۡتُمۡ لَا يَنَالُهُمُ ٱللَّهُ بِرَحۡمَةٍۚ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡجَنَّةَ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡكُمۡ وَلَآ أَنتُمۡ تَحۡزَنُونَ ٤٩ ﴾ [الاعراف: ٤٨، ٤٩]অর্থাৎ “আ’রাফবাসিগণ কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান করে বলবে, তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। দেখ এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। এদেরকেই বলা হবে, তোমরা বেহেশ্তে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।” (সূরা আ’রাফ ৪৮-৪৯ আয়াত)’ইয়াদ ইবনে হিমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ তা’আলা আমার নিকট অহী পাঠালেন যে, তোমরা পরস্পরে নরম ব্যবহার অবলম্বন কর। যাতে কেউ যেন কারো প্রতি গর্ব না করে এবং কেউ যেন কারো প্রতি যুলুম না করে।’’ (মুসলিম) [২]
আর হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে মু’মিন মানুষের মাঝে মিশে তাদের কষ্টদানে ধৈর্যধারণ করে সেই মু’মিন ঐ মু’মিন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যে লোকেদের সাথে মিশে না এবং তাদের কষ্টদানে ধৈর্যধারণ করে না।’’ (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে’ ৬৬৫১নং) [2] মুসলিম ২৮৬৫, আবূ দাউদ ৪৮৯৫, ইবনু মাজাহ ৪১৭৯, আহমাদ ১৭০৩০, ১৭৮৭৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কয়েকটি আয়াতের মাধ্যমে মুমিনদের প্রতি কোমলতা, আল্লাহভীতি, আত্মপ্রশংসা থেকে দূরে থাকা এবং অহংকারের ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা পরস্পরে নরম ব্যবহার করো, যেন কেউ কারো প্রতি গর্ব না করে এবং কেউ কারো প্রতি জুলুম না করে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো বিনয়। মানুষের সঙ্গে আচরণে নরম হওয়া, নিজের মর্যাদা দেখিয়ে অন্যকে ছোট না করা এবং ক্ষমতা থাকলেও অন্যের ওপর অন্যায় না করা—এসব আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে যুক্ত। হাদিসটি মনে করিয়ে দেয়, আসল মর্যাদা আত্মপ্রশংসায় নয়; আল্লাহভীতি ও ভালো ব্যবহারে। এ শিক্ষা পরিবার, সমাজ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সব জায়গায় প্রয়োগযোগ্য। তাই বিনয় শুধু কথার বিষয় নয়, আচরণে অন্যকে নিরাপদ রাখার বিষয়ও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনদের সঙ্গে কোমল ও বিনয়ী ব্যবহার করা উচিত।
- কাউকে ছোট করে গর্ব করা ইসলামী চরিত্রের বিপরীত।
- জুলুম থেকে বাঁচা বিনয়ী আচরণের বড় অংশ।
