১/৬৮. অধ্যায়ঃ

হারাম বস্তুর ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন এবং সন্দিহান বস্তু পরিহার করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَتَحۡسَبُونَهُۥ هَيِّنٗا وَهُوَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمٞ ﴾ [النور: ١٥]অর্থাৎ “তোমরা একে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে; যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে এ ছিল গুরুতর বিষয়।” (সূরা নূর ১৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴾ [الفجر: ١٤]অর্থাৎ “নিশ্চয় তোমার রব্ব সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা ফজর ১৪)

হালাল উপার্জন ও তাকওয়া: আবূ বকর (রাঃ)-এর সতর্কতা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৫৯৯

وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ لأبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه غُلاَمٌ يُخْرِجُ لَهُ الخَرَاجَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ، فَجَاءَ يَوْماً بِشَيءٍ، فَأكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ الغُلامُ: تَدْرِي مَا هَذَا ؟ فَقَالَ أَبُو بكر: وَمَا هُوَ ؟ قَالَ: كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لإنْسَانٍ في الجَاهِلِيَّةِ وَمَا أُحْسِنُ الكَهَانَةَ، إِلاَّ أنّي خَدَعْتُهُ، فَلَقِيَنِي، فَأعْطَانِي لِذَلِكَ، هَذَا الَّذِي أكَلْتَ مِنْهُ، فَأدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنِهِ . رواه البخاري

আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিতঃ

আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর একজন ক্রীতদাস ছিল, যে চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ধার্যকৃত কর আদায় করত। আর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তার সেই আদায়কৃত অর্থ ভক্ষণ করতেন। (অবশ্য প্রত্যহ সে অর্থ হালাল কি না, তা জিজ্ঞাসা করে নিতেন।) একদিনের ঘটনা, ঐ ক্রীতদাস কোন একটা জিনিস এনে তাঁর খিদমতে হাজির করল। আর তিনি (সেদিন ভুলে কিছু জিজ্ঞাসা না করে) তা থেকে কিছু খেয়ে ফেললেন।দাসটি বলল, ’আপনি কি জানেন, এটা কী জিনিস (যা আপনি ভক্ষণ করলেন)?’আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ’তা কী?’ দাসটি বলল, ’আমি জাহেলী যুগে একজন মানুষের ভাগ্য গণনা করেছিলাম। অথচ আমার ভাগ্য গণনা করার মত ভাল জ্ঞান ছিল না। আসলে আমি তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাকে (পারিশ্রমিকস্বরূপ) এই জিনিস দিলো, যা আপনি ভক্ষণ করলেন।’ এ কথা শুনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নিজের হাত স্বীয় মুখের ভিতরে প্রবেশ করালেন এবং পেটের মধ্যে যা কিছু ছিল বমি করে বের করে দিলেন! (বুখারী) [১]

সহীহুল বুখারী ৩৮৪২

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৫৯৯-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তাঁর এক দাস নিয়মিত উপার্জন এনে দিত। একদিন তিনি না জিজ্ঞাসা করেই তা থেকে কিছু খেয়ে ফেলেন। পরে দাসটি জানায়, জাহেলী যুগে সে এক ব্যক্তির ভাগ্য গণনা করেছিল, অথচ সে ভালোভাবে তা জানত না; আসলে সে ধোঁকা দিয়েছিল। সেই প্রতারণার পারিশ্রমিক থেকেই এই খাবার এসেছে। এটি শুনে আবূ বকর (রাঃ) মুখে হাত দিয়ে পেটের খাবার বের করে দেন। এই হালাল উপার্জন হাদিস আমাদের দেখায়, সাহাবীরা খাবার ও আয়ের উৎস নিয়ে কত সতর্ক ছিলেন। প্রতারণা, সন্দেহজনক আয় এবং হারাম সম্পদ থেকে বাঁচা একজন মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • খাবার ও উপার্জনের উৎস জানা গুরুত্বপূর্ণ।
  • প্রতারণা থেকে আসা সম্পদ থেকে দূরে থাকা উচিত।
  • সাহাবীরা হালাল-হারামের বিষয়ে গভীরভাবে সতর্ক ছিলেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন