১/৬১. অধ্যায়ঃ
কৃপণতা ও ব্যয়কুণ্ঠতা
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسۡتَغۡنَىٰ ٨ وَكَذَّبَ بِٱلۡحُسۡنَىٰ ٩ فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلۡعُسۡرَىٰ ١٠ وَمَا يُغۡنِي عَنۡهُ مَالُهُۥٓ إِذَا تَرَدَّىٰٓ ١١﴾[الليل: ٨، ١١]অর্থাৎ “পক্ষান্তরে যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে। আর সদ্বিষয়কে মিথ্যাজ্ঞান করে, অচিরেই তার জন্য আমি সুগম করে দেব (জাহান্নামের) কঠোর পরিণামের পথ। যখন সে ধ্বংস হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে না।” (সূরা লাইল ৮-১১)তিনি আরো বলেন,﴿وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ﴾[التغابن: ١٦]অর্থাৎ “যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম।” (সূরা তাগাবূন ১৬ আয়াত)এ বিষয়ে একাধিক হাদীস গত পরিচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে। আরো কিছু নিম্নরূপঃ-
জুলুম কিয়ামতের অন্ধকার: কৃপণতা থেকেও বাঁচুন
রিয়াদুস সলেহিন : ১/৫৬৮
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/৫৬৮
وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اتَّقُوا الظُّلْمَ ؛ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ القِيَامَةِ . وَاتَّقُوا الشُّحَّ ؛ فَإنَّ الشُّحَّ أهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، حَمَلَهُمْ عَلَى أنْ سَفَكُوا دِمَاءهُمْ وَاسْتَحَلُّوا مَحَارِمَهُمْ ». رواه مسلم
জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’অত্যাচার করা থেকে বাঁচ। কেননা, অত্যাচার কিয়ামতের দিনের অন্ধকার। আর কৃপণতা থেকে দূরে থাক। কেননা, কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। (এই কৃপণতাই) তাদেরকে প্ররোচিত করেছিল, ফলে তারা নিজেদের রক্তপাত ঘটিয়েছিল এবং তাদের উপর হারামকৃত বস্তুসমূহকে হালাল করে নিয়েছিল।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৫৭৮, আহমাদ ১৪০৫২
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুইটি বড় বিপদ থেকে সতর্ক করেছেন। প্রথমটি হলো জুলুম। তিনি বলেছেন, অত্যাচার করা থেকে বাঁচো; কারণ জুলুম কিয়ামতের দিনের অন্ধকার। জুলুম শুধু বড় অপরাধের নাম নয়; কারও অধিকার নষ্ট করা, অন্যায় করা, শক্তির অপব্যবহার করাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয় সতর্কতা হলো কৃপণতা। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কৃপণতা পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করে দিয়েছিল। এটি তাদের রক্তপাত ঘটাতে এবং হারামকে হালাল মনে করতে প্ররোচিত করেছিল। তাই এই হাদিসে জুলুম ও কৃপণতাকে শুধু ব্যক্তিগত দোষ হিসেবে নয়, সমাজের জন্যও বিপজ্জনক আচরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মুমিনের উচিত ন্যায়পরায়ণ ও উদার হওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুলুম কিয়ামতের দিনের অন্ধকারের কারণ।
- কারও অধিকার নষ্ট করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- কৃপণতা মানুষকে বড় অন্যায়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
- ন্যায় ও উদারতা মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
