১/৫৭. অধ্যায়ঃ
অল্পে তুষ্টি, চাওয়া হতে দূরে থাকা এবং মিতাচারিতা ও মিতব্যয়িতার মাহাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনে চাওয়ার নিন্দাবাদ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,وَمَا مِن دَآبَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزۡقُهَا﴾[هود: ٦]অর্থাৎ “আর ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন এমন প্রাণী নেই যে, তার রুযী আল্লাহর দায়িত্বে নেই।” (সূরা হূদ ৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ لِلۡفُقَرَآءِ ٱلَّذِينَ أُحۡصِرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا يَسۡتَطِيعُونَ ضَرۡبٗا فِي ٱلۡأَرۡضِ يَحۡسَبُهُمُ ٱلۡجَاهِلُ أَغۡنِيَآءَ مِنَ ٱلتَّعَفُّفِ تَعۡرِفُهُم بِسِيمَٰهُمۡ لَا يَسَۡٔلُونَ ٱلنَّاسَ إِلۡحَافٗاۗ﴾[البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “(দান) অভাবগ্রস্ত লোকদের প্রাপ্য; যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, জীবিকার সন্ধানে ভূপৃষ্ঠে ঘোরা-ফেরা করতে পারে না। তারা কিছু চায় না বলে, অবিবেচক লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে; তারা লোকদের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে যাচ্ঞা করে না।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا ٦٧﴾[الفرقان: ٦٦]অর্থাৎ “যারা ব্যয় করলে অপচয় করে না, কার্পণ্যও করে না; বরং তারা এ দুয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করে।” (সূরা ফুরকান ৬৭ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ ٥٦ مَآ أُرِيدُ مِنۡهُم مِّن رِّزۡقٖ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطۡعِمُونِ٥٧﴾[الذاريات: ٥٦، ٥٧]অর্থাৎ “আমি সৃষ্টি করেছি জ্বিন ও মানুষকে কেবল এ জন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে। আমি তাদের নিকট হতে জীবিকা চাই না এবং এও চাই না যে তারা আমার আহার্য যোগাবে।” (সূরা যারিয়াত ৫৬-৫৭ আয়াত)
যাতুর রিকা যুদ্ধের হাদিস: কষ্ট, ধৈর্য ও আমল গোপন রাখা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৫৩০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৫৩০
وَعَن أَبي بُردَةَ، عَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في غَزاةٍ وَنَحْنُ سِتَّةُ نَفَرٍ بَيْنَنَا بَعِيرٌ نَعْتَقِبُهُ، فَنقِبَت أَقدَامُنَا وَنَقِبَت قَدَمِي، وَسَقَطَت أظْفَارِي، فَكُنَّا نَلُفُّ عَلَى أرْجُلِنا الخِرَقَ، فَسُمِّيَت غَزْوَةَ ذَاتِ الرِّقَاعِ لِمَا كُنَّا نَعْصِبُ عَلَى أرْجُلِنَا مِنَ الخِرَقِ، قَالَ أَبُو بُردَةَ: فَحَدَّثَ أَبُو مُوسَى بِهَذَا الحَدِيثِ، ثُمَّ كَرِه ذَلِكَ، وَقَالَ: مَا كُنْتُ أصْنَعُ بِأنْ أذْكُرَهُ ! قَالَ: كأنَّهُ كَرِهَ أنْ يَكُونَ شَيْئاً مِنْ عَمَلِهِ أفْشَاهُ . متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ বুরদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
আবূ মুসা আশআরী (রাঃ) বলেন, ’’কোন যুদ্ধে আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে রওনা হলাম। আমরা ছিলাম ছ’জন। আমাদের একটি মাত্র উঁট ছিল। পর্যায়ক্রমে এক এক করে আমরা তার পিঠে আরোহন করলাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে গেল। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, খসে গেল নখগুলো। এ কারণে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া বাঁধলাম। এ জন্য এ যুদ্ধকে ’যাতুর রিকা’ (নেকড়া-ওয়ালা) যুদ্ধ বলা হয়। কেননা, এ যুদ্ধে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দিয়ে পট্টি বেঁধেছিলাম।’’আবূ মূসা (রাঃ) উক্ত ঘটনা বর্ণনা করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে পছন্দ করতেন না। তিনি বলেন, ’আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভাল মনে করি না।’ সম্ভবতঃ তিনি পছন্দ করতেন না যে, তাঁর কিছু আমল তিনি প্রকাশ করুন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৪১২৮, মুসলিম ১৮১৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) যুদ্ধের সফরের কষ্টের কথা বলেছেন। তাঁরা ছয়জন ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে একটি মাত্র উট ছিল। পালা করে কেউ উটে উঠতেন, বাকিরা হাঁটতেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁদের পা ফেটে যায়, এমনকি আবূ মূসা (রাঃ)-এর পায়ের নখ খসে যায়। তাঁরা পায়ে কাপড়ের টুকরা বেঁধেছিলেন। এ কারণেই সে যুদ্ধকে যাতুর রিকা বলা হয়। এই হাদিসে সাহাবীদের কষ্ট, ধৈর্য এবং আল্লাহর পথে ত্যাগের কথা বোঝা যায়। কিন্তু আরও একটি সূক্ষ্ম শিক্ষা আছে। আবূ মূসা (রাঃ) পরে এই ঘটনা বর্ণনা করা পছন্দ করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, সম্ভবত তিনি নিজের কোনো আমল প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না। যাতুর রিকা যুদ্ধের হাদিস তাই শুধু কষ্টের কথা নয়, আমলে বিনয় রাখার শিক্ষাও দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে সাহাবীরা কঠিন কষ্ট সহ্য করেছেন।
- সামান্য বাহন ও কঠিন সফরেও তাঁরা ধৈর্য রেখেছেন।
- নিজের ভালো আমল প্রকাশ করা থেকে বাঁচা বিনয়ের লক্ষণ হতে পারে।
- কষ্টের স্মৃতি মানুষকে ত্যাগ ও ধৈর্যের কথা মনে করায়।
