১/৫৬. অধ্যায়ঃ
উপবাস, রুক্ষ ও নীরস জীবন যাপন করা, পানাহার ও পোশাক ইত্যাদি মনোরঞ্জনমূলক বস্তুতে অল্পে তুষ্ট হওয়া এবং প্রবৃত্তির দাসত্ব বর্জন করার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা’আলা বলেন,فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِۖ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّا ٥٩ إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُونَ شَيۡٔٗا ٦٠﴾[مريم: ٥٩، ٦٠]অর্থাৎ “তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীগণ, তারা নামায নষ্ট করল ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হল; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তু তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে; তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” (সূরা মারয়্যাম ৫৯-৬০ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوۡمِهِۦ فِي زِينَتِهِۦۖ قَالَ ٱلَّذِينَ يُرِيدُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا يَٰلَيۡتَ لَنَا مِثۡلَ مَآ ُوتِيَ قَٰرُونُ إِنَّهُۥ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٖ ٧٩ وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ وَيۡلَكُمۡ ثَوَابُ ٱللَّهِ خَيۡرٞ لِّمَنۡ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗاۚ﴾[القصص: ٧٩، ٨٠]অর্থাৎ “কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বাহির হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল, আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক্ তোমাদের! যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ। আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা অন্য কেউ পায় না।” (সূরা কাস্বাস ৭৯-৮০ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেছেন,﴿ ثُمَّ لَتُسَۡٔلُنَّ يَوۡمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ ٨﴾[التكاثر: ٨]অর্থাৎ “এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা সুখ-সম্পদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরা তাকাসুর ৮)অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَهُۥ جَهَنَّمَ يَصۡلَىٰهَا مَذۡمُومٗا مَّدۡحُورٗا ١٨﴾[الاسراء: ١٨]অর্থাৎ “কেউ পার্থিব সুখ-সম্ভোগ কামনা করলে আমি যাকে যা ইচ্ছা সত্বর দিয়ে থাকি, পরে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি; সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ হতে দূরীকৃত অবস্থায়।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ১৮ আয়াত)
পরিমিত রিজিকের দোয়া: প্রয়োজনমতো জীবনের শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ১১/৫০৬
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১১/৫০৬
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: « اَللهم اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمّدٍ قُوتاً ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দো’আ করতেন, ’’হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার-পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় জীবিকা প্রদান কর।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৫৪৬০, মুসলিম ১০৫৫, তিরমিযী ২৩৬১, ইবনু মাজাহ ৪১৩৯, আহমাদ ৭১৩৩, ৯৪৬১, ৯৮৭৭
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১১/৫০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর পরিবার-পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় জীবিকা প্রদান কর। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, দোয়ায় অতিরিক্ত ধন-সম্পদ নয়, প্রয়োজনীয় জীবিকার কথা এসেছে। এটি পরিমিত রিজিক, কনাআত এবং সাধারণ জীবনের শিক্ষা দেয়। মানুষের জীবনে খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও প্রয়োজন পূরণ হওয়া বড় নিয়ামত। এই হাদিস আমাদের শেখায়, রিজিক চাওয়া যাবে, তবে দুনিয়ার অতিরিক্ত লোভকে জীবনের মূল লক্ষ্য করা ঠিক নয়। নবীজির দোয়া আমাদের হৃদয়ে তুষ্টি, সংযম ও আল্লাহর উপর নির্ভরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনীয় জীবিকা আল্লাহর কাছে চাওয়া নবীজির দোয়া থেকে শেখা যায়।
- অতিরিক্ত লোভের বদলে পরিমিত রিজিকে তুষ্ট থাকা ভালো।
- পরিবারের প্রয়োজন পূরণ হওয়া বড় নিয়ামত।
- রিজিকের বিষয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা দরকার।
