১/৩. অধ্যায়ঃ
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴾ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴿وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴾ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴿ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴾ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴾ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴾ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴾ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
রাগ সংবরণ: ক্ষমতা থাকলেও নিজেকে থামানোর ফজিলত
রিয়াদুস সলেহিন : ২৩/৪৮
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২৩/৪৮
وعن معاذ بن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من كظم غيظاً ، وهو قادر على أن ينفذه، دعاه الله سبحانه وتعالى على رؤوس الخلائق يوم القيامة حتى يخيره من الحور العين ما شاء" (رواه أبو داود، والترمذي وقال: حديث حسن).
মু‘আয ইবনু আনাস হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি ক্রোধ সংবরণ করবে অথচ সে তা বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা রাখে। আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে এখতিয়ার দিবেন যে, সে যে কোন হুর নিজের জন্য পছন্দ করে নিক।’’[১]
(ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীসটি হাসান।) তিরমিযী ২০২১, ২৪৯৩, আবূ দাউদ ৪৭৭৭, ইবনু মাজাহ ৪১৮৬, আহমাদ ১৫১৯২, ১৫২১০
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ২৩/৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে, যার রাগ প্রকাশ করার ক্ষমতা আছে, তবুও সে নিজেকে থামিয়ে রাখে। অনেক সময় মানুষ রেগে গেলে কথা, আচরণ বা ক্ষমতা দিয়ে নিজের রাগ বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু সে যদি আল্লাহর জন্য রাগ সংবরণ করে, তাহলে তার জন্য বড় সম্মানের কথা বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সৃষ্টির সামনে ডাকবেন এবং তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেবেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো শক্তি থাকা সত্ত্বেও সংযম রাখা। শুধু দুর্বল হয়ে চুপ থাকা নয়; বরং পারার পরও নিজের রাগকে আটকে রাখা একটি বড় নৈতিক শক্তি। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমাশীল আচরণ মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ সংবরণ করা প্রশংসনীয় গুণ।
- রাগ বাস্তবায়ন না করে নিজেকে থামানো বড় ধৈর্যের কাজ।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগ দমন করলে সম্মানজনক প্রতিদানের আশা আছে।
- রাগের সময় নিজের ক্ষমতা ভুলভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
