১/৫৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর সাক্ষাতের আনন্দে কান্না করার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَيَخِرُّونَ لِلۡأَذۡقَانِ يَبۡكُونَ وَيَزِيدُهُمۡ خُشُوعٗا۩ ١٠٩﴾[الاسراء: ١٠٩]অর্থাৎ “তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ১০৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ أَفَمِنۡ هَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ تَعۡجَبُونَ ٥٩ وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ ٦٠﴾[النجم: ٥٩، ٦٠]অর্থাৎ “তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ? এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! ক্রন্দন করছ না?” (সূরা নাজম ৫৯-৬০ আয়াত)
দুনিয়ার প্রাচুর্য দেখে সাহাবীদের আত্মসমীক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/৪৫৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৪৫৯
وَعَن إِبرَاهِيمَ بنِ عَبدِ الرَّحمَانِ بنِ عَوفٍ: أَنَّ عَبدَ الرَّحمَانِ بنَ عَوفٍ رضي الله عنه أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِماً، فَقَالَ: قُتِلَ مُصْعَبُ بنُ عُمَيْرٍ رضي الله عنه، وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي، فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ إِنْ غُطِّيَ بِهَا رَأسُهُ بَدَتْ رِجْلاهُ ؛ وَإنْ غُطِّيَ بِهَا رِجْلاَهُ بَدَا رَأسُهُ، ثُمَّ بُسِطَ لَنَا مِنَ الدُّنْيَا مَا بُسِطَ - أَو قَالَ: أُعْطِينَا مِنَ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا- قَدْ خَشِينا أنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا، ثُمَّ جَعَلَ يَبكِي حَتَّى تَرَكَ الطَّعَامَ . رواه البخاري
ইব্রাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
একদিন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ)-এর কাছে খাবার আনা হল, তখন তাঁর রোযা ছিল। তিনি বললেন, ’মুস’আব ইবনে ’উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন। আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে ভাল লোক। (অথচ) তাঁকে কাফন দেওয়ার মত এমন একটি চাদর ভিন্ন অন্য কিছু পাওয়া গেল না, যা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা দু’টি বের হয়ে যাচ্ছিল এবং পা দু’টি ঢাকলে মাথা বের হয়ে যাচ্ছিল! তারপর আমাদের জন্য পৃথিবীর যে প্রাচুর্য দেওয়া হল, অথবা তিনি বললেন, ’আমাদেরকে পার্থিব সম্পদ যা দেওয়া হল, আমাদের আশংকা হয় যে, আমাদের সৎকর্মের (বিনিময়) আমাদের জন্য ত্বরান্বিত করা হয়েছে। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাবারও পরিহার করলেন।’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ১২৭৫, ১২৭৪, ৪০৪৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৪৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাঃ-এর গভীর আত্মসমীক্ষার কথা এসেছে। রোজা অবস্থায় তাঁর সামনে খাবার আনা হলে তিনি মুস’আব ইবনে উমাইর রাঃ-এর শাহাদাত ও কাফনের অভাবের কথা স্মরণ করলেন। তিনি বললেন, মুস’আব রাঃ তাঁর চেয়ে উত্তম ছিলেন, কিন্তু তাঁকে ঢাকার মতো পূর্ণ কাফনও পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি বললেন, আমাদের জন্য দুনিয়ার প্রাচুর্য খুলে দেওয়া হয়েছে; আশঙ্কা হয়, আমাদের সৎকর্মের প্রতিদান কি দুনিয়াতেই তাড়াতাড়ি দেওয়া হচ্ছে? এই ভাবনায় তিনি কাঁদলেন এবং খাবার ছেড়ে দিলেন। হাদিসটি দুনিয়ার নেয়ামত পেলে আত্মভোলা না হয়ে আখিরাত ভাবতে শেখায়। তাই প্রাচুর্য পেলেই নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বরং তা আল্লাহর পরীক্ষা হতে পারে—এই ভাবনা সাহাবীদের হৃদয়ে জীবন্ত ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার প্রাচুর্য পেলে আত্মসমীক্ষা করা দরকার।
- সাহাবীরা আগের ত্যাগ ও কষ্ট স্মরণ করে হৃদয় নরম রাখতেন।
- নেয়ামত মানুষকে কৃতজ্ঞ ও সতর্ক—দুই অবস্থায় রাখে।
