১/৫২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর কাছে ভাল আশা রাখার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা’আলা (মূসা আলাইহিস সালাম-এর অনুসারী) এক নেক বান্দার ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে বলেন,﴿ وَأُفَوِّضُ أَمۡرِيٓ إِلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَصِيرُۢ بِٱلۡعِبَادِ ٤٤ فَوَقَىٰهُ ٱللَّهُ سَئَِّاتِ مَا مَكَرُواْۖ﴾[غافر: ٤٤، ٤٥]অর্থাৎ “আমি আমার ব্যাপার আল্লাহকে সোপর্দ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর দাসদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন। অতঃপর আল্লাহ তাকে ওদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি ফিরআউন সম্প্রদায়কে গ্রাস করল।” (সূরা গাফির ৪৪-৪৫ আয়াত)
ইস্তিগফার ও তাওহীদ: আল্লাহর ক্ষমার আশা
রিয়াদুস সলেহিন : ৩/৪৪৭
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/৪৪৭
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «قَالَ اللهُ تَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ، إنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَلاَ أُبَالِي . يَا ابْنَ آدَمَ، لَوْ بَلَغَت ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ، ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلاَ أُبَالِي . يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّكَ لَوْ أتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطَايا، ثُمَّ لَقَيْتَنِي لاَ تُشْرِكُ بِي شَيْئاً، لأَتَيْتُكَ بقُرَابِها مَغْفِرَةً ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن»
নাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ’’আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’হে আদম সন্তান! যাবৎ তুমি আমাকে ডাকবে এবং ক্ষমার আশা রাখবে, তাবৎ আমি তোমাকে ক্ষমা করব। তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে থাকে অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাক, তাহলে আমি পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব।’’ (তিরমিযী, হাসান) [১]
তিরমিযী ৩৫৪০
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/৪৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর ক্ষমার বিশাল দরজা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে ক্ষমার আশা রাখবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করব। গুনাহ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছালেও যদি বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ ক্ষমা করেন। শেষে তাওহীদের কথা এসেছে: যদি কেউ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আসে, কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে, তাহলে আল্লাহ পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার কাছে আসবেন। তাই এই হাদিসে ইস্তিগফার, দোয়া, আশা এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা একসাথে রয়েছে। তাই বান্দার উচিত দোয়া বন্ধ না করা, ইস্তিগফার ছেড়ে না দেওয়া এবং তাওহীদের উপর স্থির থাকা। ক্ষমার আশা তাকে আল্লাহ থেকে দূরে নয়, বরং কাছে নিয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে ডাকা ও ক্ষমার আশা রাখা মাগফিরাতের কারণ।
- গুনাহ বড় হলেও ইস্তিগফারের দরজা খোলা থাকে।
- তাওহীদ ও শিরক থেকে বেঁচে থাকা ক্ষমার মূল ভিত্তি।
