১/৪৮. অধ্যায়ঃ
নেক লোক, দুর্বল ও গরীব মানুষদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে ভীতিপ্রদর্শন
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱلَّذِينَ يُؤۡذُونَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ بِغَيۡرِ مَا ٱكۡتَسَبُواْ فَقَدِ ٱحۡتَمَلُواْ بُهۡتَٰنٗا وَإِثۡمٗا مُّبِينٗا ٥٨ ﴾ [الاحزاب: ٥٨]অর্থাৎ “যারা বিনা অপরাধে বিশবাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।” সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴾ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না। এবং ভিক্ষুককে ধমক দিও না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)
ফজরের নামাজ জামাতে: আল্লাহর জিম্মার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৩৯৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৯৪
وَعَن جُندُبِ بنِ عَبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: « مَنْ صَلَّى صَلاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ في ذِمَّةِ الله فَلاَ يَطْلُبَنَّكُمُ الله مِنْ ذِمَّته بشَيءٍ، فَإنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ منْ ذمَّته بشَيءٍ يُدْركْهُ، ثُمَّ يَكُبُّهُ عَلَى وَجْهِهِ في نَارِ جَهَنَّمَ ». رواه مسلم
জুন্দুব ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এই পরিচ্ছেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বহু হাদীস রয়েছে। তার মধ্যে ৯৬ নং হাদীস, যাতে বলা হয়েছে, ’’নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন বন্ধুর সাথে শত্রুতা করবে, তার সঙ্গে আমার যুদ্ধের ঘোষণা রইল।’’যেমন ২৬৬ নং হাদীসটিও এই পরিচ্ছেদের সাথে সম্পর্ক রাখে; যাতে বলা হয়েছে, ’’সম্ভবতঃ তুমি তাদেরকে (অর্থাৎ সালমান, সুহাইব ও বিলালকে) অসন্তুষ্ট করেছ। তুমি যদি তাদেরকে অসন্তুষ্ট করে থাক, তাহলে তুমি তোমার প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করেছ।’’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ল, সে আল্লাহর জামানতে চলে এল। সুতরাং আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তার জামানতের কিছু দাবী না করেন। কারণ, যার কাছেই তিনি তাঁর জামানতের কিছু দাবী করবেন, তাকে পাকড়াও করবেন। অতঃপর তিনি তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’ (মুসলিম)[১] (বলা বাহুল্য, যে নামায পড়ে সে আল্লাহর জামানতে। সুতরাং সে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র।)
মুসলিম ৬৫৭, তিরমিযী ২২২, আহমাদ ১৮৩২৬, ১৮৩৩৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়ল, সে আল্লাহর জিম্মায় চলে এল। এরপর সতর্ক করা হয়েছে, আল্লাহ যেন তোমাদের কাছে তাঁর জিম্মার ব্যাপারে কোনো দাবি না করেন; কারণ যাকে তিনি ধরবেন, তাকে পাকড়াও করবেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাদিসের ভাষা খুব শক্ত, তাই এর মূল শিক্ষা হলো ফজরের নামাজ পড়া মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে হালকা করে দেখা যাবে না। কারও ইবাদত তাকে সম্মানের পাত্র করে। ইসলামী স্কলারদের মতে, এখানে বিশেষভাবে মুসলিমের অধিকার নষ্ট করা ও তাকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সাবধানতা আছে। তাই ফজরের নামাজ হাদিস শুধু নামাজের গুরুত্ব নয়, নামাজি মানুষের মর্যাদাও মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের নামাজ আদায়কারী আল্লাহর জিম্মায় থাকে।
- নামাজি মানুষের অধিকারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- মুমিনকে কষ্ট দেওয়া বড় ভয়ের কারণ হতে পারে।
- ইবাদত মানুষের মর্যাদা বাড়ায় এবং অন্যদের সতর্ক করে।
