১/৪৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴾ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴾ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
ইন্নি উহিব্বুকা ফিল্লাহ: ভালোবাসা জানানো ও দোয়ার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১১/৩৯০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১১/৩৯০
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه : أنَّ رَجُلاً كَانَ عِنْدَ النَّبيِّ، صلى الله عليه وسلم، فَمَرَّ رَجُلٌ بِهِ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ الله، أنِّي لأُحِبُّ هَذَا، فَقَالَ لَهُ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم: أأعْلَمْتَهُ ؟ قَالَ : لاَ . قَالَ: «أعْلِمْهُ» فَلَحِقَهُ، فَقَالَ : إنِّي أُحِبُّكَ في الله، فَقَالَ : أَحَبَّكَ الَّذِي أحْبَبْتَنِي لَهُ . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট (বসে) ছিল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। (যে বসেছিল) সে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! নিঃসন্দেহে আমি একে ভালবাসি।’ (এ কথা শুনে) নবী (ﷺ) তাকে বললেন, ’’তুমি কি (এ কথা) তাকে জানিয়েছ?’’ সে বলল, ’না।’ তিনি বললেন, ’’তাকে জানিয়ে দাও।’’ সুতরাং সে (দ্রুত) তার পিছনে গিয়ে (তাকে) বলল, ’আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালবাসি।’ সে বলল, ’যাঁর ওয়াস্তে তুমি আমাকে ভালবাস, তিনি তোমাকে ভালবাসুন।’ (আবূ দাউদ, বিশুদ্ধ সূত্রে) [১]
আবূ দাউদ ৫১২৫, আহমাদ ১২০২২, ১২১০৫, ১৩১২৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/৩৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বলেন, তিনি পাশ দিয়ে যাওয়া একজনকে ভালোবাসেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, সে কি তাকে জানিয়েছে? লোকটি না বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাকে জানিয়ে দাও। সে গিয়ে বলে, ‘আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালোবাসি।’ উত্তরে ওই ব্যক্তি দোয়া করে বলে, ‘যাঁর জন্য তুমি আমাকে ভালোবাস, তিনি তোমাকে ভালোবাসুন।’ এই হাদিসে ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর ভাষা এবং উত্তরের দোয়া দুটিই এসেছে। ইন্নি উহিব্বুকা ফিল্লাহ বলা সম্পর্ককে আল্লাহমুখী করে। এতে প্রশংসা আছে, কিন্তু তা ব্যক্তিপূজা নয়; বরং আল্লাহর জন্য ভালোবাসার কথা বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভাইকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে তা জানানো সুন্নাহর শিক্ষা।
- ভালোবাসার উত্তরে দোয়া করা সুন্দর আদব।
- সম্পর্ককে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত।
- ভালোবাসা প্রকাশে ভদ্র ও পরিষ্কার ভাষা ব্যবহার করা ভালো।
