১/৪৫. অধ্যায়ঃ

ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبۡرَحُ حَتَّىٰٓ أَبۡلُغَ مَجۡمَعَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ أَوۡ أَمۡضِيَ حُقُبٗا ٦٠ ﴾ [الكهف: ٦٠] إِلَى قوله تَعَالَى : ﴿ قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلۡ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدٗا ٦٦ ﴾ [الكهف: ٦٦]অর্থাৎ “(স্মরণ কর,) যখন মূসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” -এখান থেকে আল্লাহর বাণী:- “মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?” (সূরা কাহফ ৬০-৬৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ﴾ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত

বিবাহে দ্বীনদারি: জীবনসঙ্গী নির্বাচনের হাদিস

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/৩৬৮

وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «تُنْكَحُ المَرْأَةُ لأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاك». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’চারটি গুণ দেখে মহিলাকে বিবাহ করা হয়; তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং তার দ্বীন-ধর্ম দেখে। তুমি দ্বীনদার পাত্রী লাভ করে সফলকাম হও। (অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।)’’ (বুখারী)

সহীহুল বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাউদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, আহমাদ ৯২৩৭, দারেমী ২১৭০

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/৩৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বিবাহের ক্ষেত্রে মানুষের সাধারণ বিবেচনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, চারটি কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়: ধন-সম্পদ, বংশ মর্যাদা, রূপ-সৌন্দর্য এবং দ্বীন। এরপর তিনি দ্বীনদার পাত্রীকে বেছে নিতে বলেছেন। এখানে ধন, বংশ বা রূপের বাস্তবতা অস্বীকার করা হয়নি; বরং এগুলোর ওপর দ্বীনকে অগ্রাধিকার দিতে শেখানো হয়েছে। কারণ বিবাহ শুধু বাহ্যিক পছন্দের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘ সম্পর্ক, পরিবার, চরিত্র ও দ্বীনি জীবনের সাথে জড়িত। দ্বীনদার জীবনসঙ্গী ঘরকে ভালো পথে রাখতে সাহায্য করে। তাই এই হাদিসে বিবাহে দ্বীনদারির গুরুত্ব, জীবনসঙ্গী নির্বাচন এবং পারিবারিক স্থিরতার সুন্দর দিক উঠে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদারি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
  • রূপ, ধন বা বংশ থাকলেও দ্বীনকে অবহেলা করা উচিত নয়।
  • জীবনসঙ্গী নির্বাচন শুধু বাহ্যিক পছন্দের বিষয় নয়।
  • দ্বীনদার সঙ্গী পারিবারিক জীবনকে ভালো পথে রাখতে সহায়ক।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন