১/৪৪. অধ্যায়ঃ

উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ﴾ [الزمر: ٩]অর্থাৎ “বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বুদ্ধিমান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা যুমার ৯ আয়াত)

বড়দের আগে কথা বলতে দেওয়া: বিচার ও মজলিসের আদব

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৩৫৫

وَعَن أَبي يَحيَى، وَقِيلَ : أَبي مُحَمَّدٍ سَهلِ بنِ أَبي حَثْمَةَ الأنصَارِي رضي الله عنه، قَالَ : انطَلَقَ عَبدُ اللهِ ابنُ سهْلٍ وَمُحَيِّصَةُ بنُ مَسْعُودٍ إِلَى خَيْبَرَ وَهِيَ يَومَئذٍ صُلْحٌ، فَتَفَرَّقَا، فَأتَى مُحَيِّصَةُ إِلَى عبدِ اللهِ بنِ سَهلٍ وَهُوَ يَتشَحَّطُ في دَمِهِ قَتِيلاً، فَدَفَنَهُ، ثُمَّ قَدِمَ المَدِينَةَ فَانْطَلَقَ عَبدُ الرَّحمَانِ بنُ سَهلٍ وَمُحَيِّصَةُ وحُوَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فَذَهَبَ عَبدُ الرَّحمَانِ يَتَكَلَّمُ، فَقَالَ: «كَبِّرْ كَبِّرْ»وَهُوَ أحْدَثُ القَوم، فَسَكَتَ، فَتَكَلَّمَا، فَقَالَ: أتَحْلِفُونَ وتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ ؟وذكر تمام الحديث . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

আবূ ইয়াহয়্যা মতান্তরে আবূ মুহাম্মাদ সাহ্‌ল ইবনু আবূ হাসমা আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ ইয়াহয়্যা মতান্তরে আবূ মুহাম্মাদ সাহ্‌ল ইবনু আবূ হাসমা আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু সাহ্‌ল এবং মুহাইয়িস্বাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) খায়বার রওয়ানা হলেন। সে সময় (সেখানকার ইয়াহুদী এবং মুসলিমের মধ্যে) সন্ধি ছিল। (খায়বার পৌঁছে স্ব স্ব প্রয়োজনে) তাঁরা পরস্পর পৃথক হয়ে গেলেন। অতঃপর মুহাইয়িস্বাহ আব্দুল্লাহ ইবনু সাহলের নিকট এলেন, যখন তিনি আহত হয়ে রক্তাক্ত দেহে তড়পাচ্ছিলেন। সুতরাং মুহাইয়িস্বাহ তাঁকে (তাঁর মৃত্যুর পর) সেখানেই সমাধিস্থ করলেন।তারপর তিনি মদিনা এলেন।(মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মৃতের ভাই) আব্দুর রহমান ইবনু সাহ্‌ল এবং মাসউদের দুই ছেলে মুহাইয়িস্বাহ ও হুওয়াইয়িস্বাহ নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। আব্দুর রহমান কথা বলতে গেলেন। তা দেখে নবী (ﷺ) বললেন, ’’বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দাও, বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দাও।’’ আর ওদের মধ্যে আব্দুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। ফলে তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা দু’জন কথা বললেন। (সব ঘটনা শোনার পর) নবী (ﷺ) বললেন, ’’তোমরা কি কসম খাচ্ছ এবং (নিজ ভাইয়ের) হত্যাকারী থেকে অধিকার চাচ্ছ?’’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৩১৭৩, ২৭০২, ৬১৪২, ৬৮৯৮, ৭১৯২, মুসলিম ১৬৬৯, তিরমিযী ১৪২২, নাসায়ী ৪৭১৩, ৪৭১৪, ৪৭১৫, ৪৭১৬, আবূ দাউদ ৪৫২০, ৪৫২১, ৪৫২৩, ইবনু মাজাহ ২৬৭৭

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৩৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খায়বারে আব্দুল্লাহ ইবনু সাহলের হত্যার ঘটনার কথা এসেছে। তাঁর ভাই আব্দুর রহমান এবং আরও দুইজন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে যান। আব্দুর রহমান কথা বলতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দাও। কারণ আব্দুর রহমান তাঁদের মধ্যে ছোট ছিলেন। এরপর তিনি চুপ করেন এবং বড় দুজন কথা বলেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, গুরুত্বপূর্ণ মজলিসে কথা বলারও আদব আছে। বিশেষ করে বিচার, অধিকার দাবি বা গুরুতর ঘটনার বর্ণনায় বয়স ও মর্যাদা বিবেচনা করা হয়। এখানে বয়োজ্যেষ্ঠদের আগে কথা বলার সম্মান শেখানো হয়েছে, তবে পুরো ঘটনা হত্যার দাবির প্রসঙ্গে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তায় বয়োজ্যেষ্ঠকে আগে সুযোগ দেওয়া আদব।
  • অধিকার দাবি ও বিচার বিষয়ে শৃঙ্খলা রাখা দরকার।
  • ছোটদেরও মজলিসের নিয়ম মানতে শেখা উচিত।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) কথা বলার ক্রমেও আদব শেখাতেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন