১/৩৮. অধ্যায়ঃ
পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শর‘য়ী নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজিব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَأۡمُرۡ أَهۡلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاۖ ﴾ [طه: ١٣٢]অর্থাৎ “তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং ওতে অবিচলিত থাক।” (সূরা ত্বাহা ১৩২আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٞ شِدَادٞ لَّا يَعۡصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ ٦ ﴾ [التحريم: ٦]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-সবভাব ফিশিতাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে।” (সূরা তাহরীম ৬ আয়াত)
শিশুকে নামাজ শেখানো: সাত বছর বয়সের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ৫/৩০৭
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৫/৩০৭
وَعَن أَبي ثُرَيَّةَ سَبْرَةَ بنِ مَعبَدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلاةَ لِسَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرِ سِنِينَ».حديث حسن رواه أَبُو داود والترمذي، وَقالَ: حديث حسن. ولفظ أَبي داود: مُرُوا الصَّبِيَّ بِالصَّلاةِ إِذَا بَلَغَ سَبْعَ سِنِينَ
আবূ সুরাইয়াহ সাবরাহ ইবনু মা‘বাদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সুরাইয়াহ সাবরাহ ইবনু মা’বাদ জুহানী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা শিশুকে সাত বছর বয়সে নামায শিক্ষা দাও এবং দশ বছর বয়সে তার জন্য তাকে মার।’’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]আবূ দাঊদের শব্দেঃ ’’শিশু সাত বছর বয়সে পৌঁছলে তাকে তোমরা নামাযের আদেশ দাও।’’
তিরমিযী ৪০৭, আবূ দাউদ ৪৯৪ দারেমী ১৪৩১
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৫/৩০৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: নামাজ শিক্ষা। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শিশুকে নামাজ শেখানোর কথা বলেছেন। সাত বছর বয়সে শিশুকে নামাজ শিক্ষা দিতে বলা হয়েছে। আবূ দাঊদের শব্দে এসেছে, শিশু সাত বছরে পৌঁছলে তাকে নামাজের আদেশ দাও। দশ বছর বয়সে নামাজের ব্যাপারে আরও দৃঢ় হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এখানে মূল কথা হলো, সন্তানকে নামাজের সঙ্গে পরিচিত করা বাবা-মায়ের দায়িত্ব। ছোটবেলায় শেখানো হলে নামাজ শুধু নিয়ম নয়, অভ্যাসে পরিণত হয়। হাদিসে বয়সের ধাপ উল্লেখ থাকায় বোঝা যায়, ইসলামী শিক্ষা বয়স ও বুঝ অনুযায়ী দেওয়া উচিত। শিশুকে ধীরে ধীরে, নিয়মিতভাবে এবং দায়িত্বশীলভাবে নামাজের দিকে আনাই এই হাদিসের সুন্দর বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুকে সাত বছর বয়সে নামাজের শিক্ষা দিতে হবে।
- নামাজের অভ্যাস গড়তে পরিবারকে ভূমিকা নিতে হবে।
- দশ বছর বয়সে নামাজের গুরুত্ব আরও দৃঢ়ভাবে শেখাতে হবে।
- শিক্ষা বয়স ও বুঝ অনুযায়ী দেওয়া উচিত।
