১/৩৬. অধ্যায়ঃ
পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَعَلَى ٱلۡمَوۡلُودِ لَهُۥ رِزۡقُهُنَّ وَكِسۡوَتُهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ ﴾ [البقرة: ٢٣٣]অর্থাৎ “জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণ-পোষণ করা।” (সূরা বাক্বারাহ ২৩৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ لِيُنفِقۡ ذُو سَعَةٖ مِّن سَعَتِهِۦۖ وَمَن قُدِرَ عَلَيۡهِ رِزۡقُهُۥ فَلۡيُنفِقۡ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُۚ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا مَآ ءَاتَىٰهَاۚ ﴾ [الطلاق: ٧]অর্থাৎ “সামর্থ্যবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন, তা হতে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না।” (সূরা ত্বালাক্ব ৭ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُۥۖ ﴾ [سبا: ٣٩]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন।” (সূরা সাবা ৩৯ আয়াত)
দান-সদকার ফজিলত: দাতার হাত কেন শ্রেষ্ঠ
রিয়াদুস সলেহিন : ৭/৩০১
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৭/৩০১
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ العِبَادُ فِيهِ إلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ، فَيقُولُ أحَدُهُمَا : اَللهم أعْطِ مُنْفقاً خَلَفاً، وَيَقُولُ الآخَرُ : اَللهم أعْطِ مُمْسِكاً تلَفاً». مُتَّفَقٌ عَلَيهِوَعَنهُ، عَنِ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اليَدُ العُلْيَا خَيْرٌ مِنَ اليَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأ بِمَنْ تَعُولُ، وَخَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنىً، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ»رواه البخاري
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, ’হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের বিনিময় দিন।’ আর অপরজন বলেন, ’হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস দিন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]উক্ত সাহাবী হতেই বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, ’’উপরের (দাতা) হাত নিচের (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদেরকে আগে দাও। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকাহ করা উত্তম। যে ব্যক্তি (হারাম ও ভিক্ষা করা থেকে পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বেঁচে থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবশূন্য করে দেন।’’(বুখারী)
মুসলিম ৯৯৬, আবূ দাউদ ১৬৯২, আহমাদ ৬৪৫৯, ৬৭৮৯, ৬৮০৯
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৭/৩০১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: দান ও সদকা। এই হাদিসে দান-সদকার ফজিলত খুব সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ফেরেশতাদের দোয়ার কথা বলা হয়েছে—একজন দাতার জন্য বদলার দোয়া করেন, আর অন্যজন কৃপণের ক্ষতির দোয়া করেন। এতে বোঝা যায়, সম্পদ শুধু জমিয়ে রাখার জিনিস নয়; সঠিক পথে খরচ করাও মুমিনের বড় গুণ। একই সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ দানকারী হওয়া গ্রহণকারীর চেয়ে উত্তম। তবে দান শুরু হবে নিজের দায়িত্বে থাকা মানুষদের দিয়ে। হাদিসটি আরও শেখায়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সদকা করা ভালো এবং মানুষ যদি ভিক্ষা ও পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বাঁচতে চায়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কল্যাণের আশা করতে পারে।
- নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সদকা করা উত্তম।
- হারাম ও ভিক্ষা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা প্রশংসনীয়।
