১/৩৫. অধ্যায়ঃ
স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡۚ فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٞ لِّلۡغَيۡبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُۚ ﴾ [النساء: ٣٤]অর্থাৎ “পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যময়ী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী; আল্লার হিফাযতে (আদেশ ও তওফীকে) তারা তা হিফাযত করে।” (সূরা নিসা ৩৪ আয়াত)
স্বামীর অধিকার: দাম্পত্য সম্মান ও আনুগত্যের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/২৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/২৯১
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَوْ كُنْتُ آمِراً أحَداً أنْ يَسْجُدَ لأحَدٍ لأمَرْتُ المَرأةَ أنْ تَسْجُدَ لزَوجِهَا». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن صحيح
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ (তিরমিযী হাসান সূত্রে) [১]
তিরমিযী ১১৫৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/২৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যদি তিনি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতেন, তাহলে নারীকে আদেশ করতেন যেন সে তার স্বামীকে সিজদাহ করে। হাদিসের ভাষা স্বামীর অধিকারের গুরুত্ব বোঝাতে এসেছে। এখানে বাস্তবে স্বামীকে সিজদাহ করার নির্দেশ নেই; বরং কথাটি শর্তের আকারে বলা হয়েছে—যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করা হতো। তাই মূল শিক্ষা হলো দাম্পত্য জীবনে স্বামীর অধিকারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে সিজদাহ ইবাদতের বিষয়, তাই হাদিসের বক্তব্যকে তার ভাষার সীমার মধ্যে বুঝতে হবে। স্ত্রী-স্বামীর সম্পর্কে সম্মান, দায়িত্ব ও আনুগত্য এই হাদিসে গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামীর অধিকারের গুরুত্ব হাদিসে শক্ত ভাষায় বোঝানো হয়েছে।
- হাদিসটি বাস্তবে স্বামীকে সিজদাহ করার নির্দেশ নয়।
- দাম্পত্য সম্পর্কে সম্মান ও আনুগত্যের মূল্য আছে।
- অধিকারকে অবহেলা না করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
