১/৩৪. অধ্যায়ঃ
স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ ﴾ [النساء: ١٩]অর্থাৎ “তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর।” (সূরা নিসা ১৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَلَن تَسۡتَطِيعُوٓاْ أَن تَعۡدِلُواْ بَيۡنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡۖ فَلَا تَمِيلُواْ كُلَّ ٱلۡمَيۡلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلۡمُعَلَّقَةِۚ وَإِن تُصۡلِحُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ١٢٩ ﴾ [النساء: ١٢٩]অর্থাৎ “তোমরা যতই সাগ্রহে চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের প্রতি সমান ভালোবাসা তোমরা কখনই রাখতে পারবে না। তবে তোমরা কোন এক জনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিও না। আর যদি তোমরা নিজেদের সংশোধন কর ও সংযমী হও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নিসা ১২৯ আয়াত)
স্ত্রীকে প্রহার নয়: ভালো স্বামীর আচরণ কেমন হওয়া উচিত
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/২৮৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/২৮৪
وَعَن إِيَاسِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ أَبي ذِبَابٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لاَ تَضْرِبُوا إمَاء الله» فجاء عُمَرُ رضي الله عنه إِلَى رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلَى أزْوَاجِهِنَّ، فَرَخَّصَ في ضَرْبِهِنَّ، فَأطَافَ بآلِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءٌ كَثيرٌ يَشْكُونَ أزْواجَهُنَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ أطَافَ بِآلِ بَيتِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كثيرٌ يَشْكُونَ أزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أولَئكَ بخيَارِكُمْ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
ইয়াস ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াস ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে প্রহার করবে না।’’ পরবর্তীতে উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, ’মহিলারা তাদের স্বামীদের উপর বড় দুঃসাহসিনী হয়ে গেছে।’ সুতরাং নবী (ﷺ) প্রহার করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিবারের নিকট বহু মহিলা এসে নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরম্ভ করল।সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট প্রচুর মহিলাদের সমাগম, যারা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। (জেনে রাখ, মারকুটে) ঐ (স্বামী)রা তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ নয়।’’ (আবূ দাউদ, বিশুদ্ধ সূত্রে) [১]
আবূ দাউদ ২১৪৬, ইবনু মাজাহ ১৯৮৫, দারেমী ২২১৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহর বান্দীদেরকে প্রহার করো না। পরে একটি পরিস্থিতিতে অনুমতি দেওয়ার কথা এলেও, যখন বহু নারী স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবারের কাছে আসে, তখন তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন—এ ধরনের স্বামীরা তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ নয়। তাই হাদিসের মূল বার্তা হলো, দাম্পত্য জীবনে মারধরকে ভালো আচরণ বলা যায় না। ইসলাম স্বামীকে দায়িত্বশীল করেছে, কিন্তু সেই দায়িত্বের সাথে কোমলতা, ন্যায় এবং সংযমও চাই। স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়া, অভিযোগের কারণ হওয়া এবং রুক্ষ আচরণ করা উত্তম স্বামীর গুণ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীদের প্রহার না করার নির্দেশ হাদিসে এসেছে।
- মারধরের কারণে স্ত্রীদের অভিযোগ হওয়া ভালো আচরণের লক্ষণ নয়।
- স্বামী হওয়া মানে দায়িত্বশীল হওয়া, কষ্টদাতা হওয়া নয়।
- দাম্পত্য সম্পর্কে কোমলতা ও সংযম দরকার।
