১/৩৩. অধ্যায়ঃ

অনাথ-এতীম, কন্যা-সন্তান ও সমস্ত দুর্বল ও দরিদ্রের সঙ্গে নম্রতা, তাদের প্রতি দয়া ও তাদের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “মু’মিনদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (সূরা হিজর ৮৮ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴾ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩ وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠ ﴾ [الضحا: ٩، ١٠]অর্থাৎ “অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং ভিক্ষুককে ধমক দিয়ো না।” (সূরা যুহা ৯-১০ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴾ [الماعون: ١، ٣]অর্থাৎ “তুমি কি দেখেছ তাকে, যে (দ্বীন বা) কর্মফলকে মিথ্যা মনে করে থাকে? সে তো ঐ ব্যক্তি, যে পিতৃহীনকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না।” (সূরা মাউন ১-৩ আয়াত)

অলীমার দাওয়াত: ধনীকে ডেকে দরিদ্রকে বাদ দেওয়ার সতর্কতা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/২৭১

وَعَنهُ، عَنِ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الوَلِيمَةِ، يُمْنَعُهَا مَنْ يَأتِيهَا، وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا، وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُولَهُ». رواه مسلموَفي رِوَايَةٍ في الصَّحِيحَينِ : عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ مِن قَولِهِ : «بئْسَ الطَّعَامُ طَعَامُ الوَلِيمَةِ يُدْعَى إِلَيْهَا الأغْنِيَاءُ ويُتْرَكُ الفُقَراءُ».

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেন, ’’সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার ঐ অলীমার খাবার, যাতে যে (স্বয়ং) আসে তাকে (অর্থাৎ মিসকীনকে) বাধা দেওয়া হয় এবং যাকে আহ্বান করা হয় সে (অর্থাৎ ধনী) আসতে অস্বীকার করে। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল।’’ (মুসলিম) [১]বুখারী-মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলতেন, ’অলীমার খাবার নিকৃষ্টতম খাবার, যাতে বিত্তশালীদেরকে ডাকা হয় এবং দরিদ্রদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

সহীহুল বুখারী ৫১৭৭, মুসলিম ১৪৩২, আবূ দাউদ ৩৭৪২, ইবনু মাজাহ ১৯১৩, আহমাদ ৭২৩৭, ৭৫৬৯, ৭০০৮, ১০০৪০, মুওয়াত্তা মালেক -১১৬০, দারেমী ২০৬৬

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/২৭১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم অলীমার খাবারের একটি খারাপ রূপ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, নিকৃষ্ট খাবার হলো সেই অলীমার খাবার, যেখানে যে নিজে আসে তাকে বাধা দেওয়া হয়, আর যাকে দাওয়াত দেওয়া হয় সে আসতে অস্বীকার করে। অন্য বর্ণনায় আবূ হুরাইরাহ রাঃ বলেন, সেই অলীমার খাবার নিকৃষ্ট, যেখানে ধনীদের ডাকা হয় আর দরিদ্রদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বিয়ের দাওয়াত বা সামাজিক আয়োজনে শ্রেণিবৈষম্য করা ঠিক নয়। দরিদ্রদের বাদ দিয়ে শুধু প্রভাবশালী বা ধনী মানুষকে গুরুত্ব দিলে দাওয়াতের সৌন্দর্য কমে যায়। একই সঙ্গে হাদিসে দাওয়াত গ্রহণের গুরুত্বও এসেছে। তাই অলীমা যেন অহংকার, দেখানো বা বৈষম্যের জায়গা না হয়ে ভালোবাসা ও সুন্নাহর পরিবেশ হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অলীমায় দরিদ্রদের বাদ দিয়ে শুধু ধনীদের ডাকা নিন্দিত কাজ।
  • দাওয়াতের আয়োজন বৈষম্য ও অহংকারমুক্ত হওয়া উচিত।
  • শরিয়তসম্মত দাওয়াত গ্রহণের গুরুত্ব আছে।
  • সামাজিক অনুষ্ঠানে গরীব মানুষকে সম্মানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন