১/৩২. অধ্যায়ঃ
দুর্বল, গরীব ও খ্যাতিহীন মুসলিমদের মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ وَلَا تَعۡدُ عَيۡنَاكَ عَنۡهُمۡ تُرِيدُ زِينَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ﴾ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং তুমি পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের দিক হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত)
আসল মর্যাদা: দুনিয়ার মান নয়, আল্লাহর কাছে মূল্য
রিয়াদুস সালেহীন : ২/২৫৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/২৫৮
وعن أَبي العباسِ سهلِ بنِ سعدٍ الساعِدِيِّ رضي اللَّه عنه قال : مرَّ رجُلٌ على النَبيِّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِوسَلَّم فقالَ لرجُلٍ عِنْدهُ جالسٍ : » ما رَأَيُكَ فِي هَذَا ؟ « فقال : رَجُلٌ مِنْ أَشْرافِ النَّاسِ هذا وَاللَّهِ حَريٌّ إِنْخَطَب أَنْ يُنْكَحَ وَإِنْ شَفَع أَنْ يُشَفَّعَ . فَسَكَتَ رسول اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم ، ثُمَّ مَرَّ رَجُلٌ آخرُ ، فقال لهرسولُ اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم : » مَا رأُيُكَ فِي هَذَا ؟ « فقال : يا رسولَ اللَّه هذا رَجُلٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ، هذَا حريٌّ إِنْ خطَب أَنْ لا يُنْكَحَ ، وَإِنْ شَفَع أَنْ لا يُشَفَّع،َ وَإِنْ قَالَ أَنْ لا يُسْمع لِقَوْلِهِ . فقال رسول اللَّه صَلّىااللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم : » هَذَا خَيْرٌ منْ مِلءِ الأَرْضِ مِثْلَ هذَا« متفقٌ عليه .قوله : » حَرِيُّ « هو بفتحِ الحاءِ وآسر الراءِ وتشديد الياءِ : أَيْ حقِيقٌ . وقوله: »شَفَعَ« بفتح الفاءِ .
আবূ আব্বাস সাহ্ল ইবনু সা‘দ সায়েদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর পাশ দিয়ে পার হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর নিকট উপবিষ্ট একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ’’এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কী?’’ সে বলল, ’এ ব্যক্তি তো এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোক। আল্লাহর কসম! সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন।কিছুক্ষণের মধ্যে আর এক ব্যক্তি পার হয়ে গেল। তিনি ঐ (উপবিষ্ট) লোকটিকে বললেন, ’’এ লোকটির ব্যাপারে তোমার অভিমত কী?’’ সে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! এ তো একজন দরিদ্র মুসলিম। সে এমন ব্যক্তি যে, সে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে না এবং সে কোনো কথা বললে, তার কথা শ্রবণযোগ্য হবে না।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’এ ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ লোকদের চাইতে বহু উত্তম।’’ (বুখারী, মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৫০৯১, ৬৪৪৭,ইবনু মাজাহ ৪১২০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/২৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে মানুষের মূল্যায়নের ভুল দিক দেখানো হয়েছে। প্রথম ব্যক্তি সম্ভ্রান্ত পরিবারভুক্ত; তার বিয়ে বা সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে—এমন মন্তব্য করা হলো। নবী (صلى الله عليه وسلم) নীরব থাকলেন। পরে আরেক দরিদ্র মুসলিম গেলেন, যাকে বলা হলো তার বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ হবে না, সুপারিশও কবুল হবে না, কথাও শোনা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এ ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ লোকদের চেয়ে উত্তম। এই হাদিস আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে মানুষের মূল্য শুধু ধন, পরিবার, প্রভাব বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় নয়। দরিদ্র ও অবহেলিত মুসলিমও আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাবান হতে পারেন। তাই কাউকে বাহ্যিক অবস্থায় ছোট করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের বাহ্যিক মর্যাদা আল্লাহর কাছে আসল মানদণ্ড নয়।
- দরিদ্র মুসলিমকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
- সামাজিক প্রভাব বা গ্রহণযোগ্যতা সব সময় প্রকৃত মর্যাদা বোঝায় না।
- মানুষকে বিচার করতে অহংকার ও বাহ্যিকতা থেকে বাঁচতে হবে।
