১/২৬. অধ্যায়ঃ
অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿مَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ حَمِيمٖ وَلَا شَفِيعٖ يُطَاعُ ﴾ [غافر: ١٨]অর্থাৎ “সীমালংঘনকারীদের জন্য অন্তরঙ্গ কোন বন্ধু নেই এবং এমন কোন সুপারিশকারীও নেই যার সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে।” (সূরা মুমিন ১৮ আয়াত)﴿ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٖ ﴾ [الحج: ٧١]অর্থাৎ “যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা হাজ্জ ৭১ আয়াত)হাদীসসমূহ:এই পরিচ্ছেদে আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ’আনহু-এর (১১৩নং) হাদীসটিও উল্লেখ্য, যেটি ’মুজাহাদাহ’ পরিচ্ছেদের শেষে বর্ণিত হয়েছে।
অন্যের হক আত্মসাৎ: রায় পেলেই হক হয়ে যায় না
রিয়াদুস সালেহীন : ১৭/২২৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৭/২২৪
وعن أُمِّ سَلَمةَ رضي اللَّه عنها ، أَن رسول اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قال : » إِنَّمَا أَنَا بشَرٌ ، وَإِنَّكُمْتَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ ، وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحنَ بحُجَّتِهِ مِنْ بَعْض ، فأَقْضِي لَهُ بِنحْو ما أَسْمَعُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُبحَقِّ أَخِيهِ فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ « متفق عليه . »أَلْحَنَ « أَيْ : أَعْلَم .
উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’আমি তো একজন মানুষ। আর তোমরা (বিবাদ করে) ফায়সালার জন্য আমার নিকট আসো। হয়তো তোমাদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় অধিক বাকপটু। আর আমি তার কথার ভিত্তিতে তার পক্ষে ফায়সালা করি। সুতরাং আমি যদি কাউকে তার (মুসলিম) ভায়ের হক তার জন্য ফায়সালা করে দিই, তাহলে আসলে আমি তার জন্য আগুনের টুকরা কেটে দিই।’’[১]
সহীহুল বুখারী ২৪৫৮, ২৬৮০, ৬৯৬৭, ৭১৬৯, ৭১৮১, ৭১৮৫, মুসলিম ১৭১৩, নাসায়ী ৫৪০১, আবূ দাউদ ৩৫৮৩, ইবনু মাজাহ ২৩১৭, আহমাদ ২৫৯৫২, ২৬০৭৮, ২৬০৮৬, ২৬১৭৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৭/২২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচার, যুক্তি এবং অন্যের হক নিয়ে গভীর সতর্কতা আছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি একজন মানুষ; লোকেরা তাঁর কাছে বিবাদ নিয়ে আসে। কেউ হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি বাকপটু হতে পারে, ফলে তাঁর শোনা কথার ভিত্তিতে তার পক্ষে ফয়সালা হতে পারে। কিন্তু যদি সে আসলে তার মুসলিম ভাইয়ের হক নিয়ে থাকে, তাহলে নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি যেন তার জন্য আগুনের টুকরা কেটে দিচ্ছেন। অর্থাৎ বাহ্যিক রায় পেলেই অন্যের সম্পদ বা অধিকার বৈধ হয়ে যায় না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সত্য গোপন করে, সুন্দর কথা বলে বা কৌশলে অন্যের হক নেওয়া খুব বিপজ্জনক। মুসলিমের দায়িত্ব হলো সত্য বলা এবং অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে জিতে গেলেই অন্যের হক বৈধ হয়ে যায় না।
- বাকপটুতা দিয়ে সত্য ঢেকে রাখা ভয়ংকর অন্যায়।
- মানুষের হক নেওয়া কিয়ামতের কঠিন জবাবদিহির কারণ হতে পারে।
- সত্য ও ন্যায় মুসলিম চরিত্রের মূল অংশ।
