১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
নবীজির দীর্ঘ খুতবা: অতীত ও ভবিষ্যৎ ঘটনার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫৪/১৮৭০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫৪/১৮৭০
وَعَنْ أَبي زَيدٍ عَمرِو بنِ أَخْطَبَ الأنصاريِّ رضي الله عنه قَالَ: صلَّى بِنَا رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم الفَجْرَ، وَصَعِدَ المِنْبَرَ، فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الظُّهْرُ، فَنَزَلَ فَصَلَّى، ثُمَّ صَعِدَ المِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ العَصْرُ، ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى، ثُمَّ صَعِدَ المِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَأَخْبَرَنَا بِمَا كَانَ وَبِمَا هُوَ كَائِنٌ، فَأَعْلَمُنَا أَحْفَظُنَا . رواه مسلم
আবূ যায়েদ আম্র ইবনে আখত্বাব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
’একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন, অতঃপর মিম্বরে চড়ে ভাষণ দিলেন। শেষ পর্যন্ত যোহরের সময় হয়ে গেল। সুতরাং তিনি নীচে নামলেন ও নামায পড়লেন। তারপর আবার মিম্বরে চাপলেন [ও ভাষণ দানে প্রবৃত্ত হলেন] শেষ পর্যন্ত আসরের সময় হয়ে গেল। তিনি পুনরায় নীচে অবতরণ করলেন ও নামায পড়লেন। অতঃপর তিনি আবার মিম্বরে উঠলেন এবং খুতবা পরিবেশনে ব্রতী হলেন, শেষ পর্যন্ত সূর্য অস্ত গেল। সুতরাং অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সমস্ত বিষয়গুলি তিনি আমাদেরকে জানালেন। অতএব আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বাধিক বড় জ্ঞানী, যিনি এসব কথাগুলি সবার চাইতে বেশি মনে রেখেছেন।’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ২৮৯২, আহমাদ ২২৩৮১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫৪/১৮৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ যায়েদ আমর ইবনে আখতাব (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফজরের নামায পড়ালেন, তারপর মিম্বরে উঠে ভাষণ দিলেন। যোহরের সময় হলে নেমে নামায পড়লেন, আবার মিম্বরে উঠলেন। আসরের সময়েও একইভাবে নামায পড়ে আবার খুতবা দিলেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত কথা বললেন। তিনি অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে—এসব বিষয়ে সাহাবীদের জানালেন। শেষে রাবী বলেন, তাঁদের মধ্যে যিনি বেশি মনে রেখেছেন, তিনিই বেশি জ্ঞানী। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবীজির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও মনে রাখা বড় জ্ঞান। জ্ঞান শুধু শোনা নয়; তা ধরে রাখা, বুঝে নেওয়া এবং দায়িত্বের সঙ্গে বহন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, সাহাবীরা শুধু শুনতেন না; তাঁরা নবীজির কথা আমানত হিসেবে মনে রাখতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা বড় আমল।
- জ্ঞান ধরে রাখা জ্ঞানীর একটি বড় বৈশিষ্ট্য।
- নামাযের সময় হলে খুতবা থামিয়ে নামায আদায় করা হয়েছে।
- অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে নবীজির দেওয়া খবর সাহাবীরা গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন।
