১৮/৩৬৪. অধ্যায়ঃ
পানাহার, পবিত্রতা অর্জন তথা অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহার করা হারাম
রূপার পাত্র এড়িয়ে চলা: আনাস (রাঃ)-এর বাস্তব আমল
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৮০৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৮০৬
وَعَنْ أَنَسِ بنِ سِيِرين، قَالَ: كُنْتُ مَعَ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه عِنْدَ نَفَرٍ مِنَ المَجُوسِ ؛ فَجِيءَ بفَالُوذَجٍ عَلَى إِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ، فَلَمْ يَأكُلْهُ، فَقِيلَ لَهُ : حَوِّلْهُ، فَحَوَّلَهُ عَلَى إِنَاءٍ مِنْ خَلَنْجٍ وَجِيءَ بِهِ فَأَكَلَهُ . رواه البيهقي بإسناد حسن
আনাস ইবনে সীরীন হতে বর্ণিতঃ
’’অগ্নিপূজক সম্প্রদায়ের কিছু লোকের কাছে আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় রূপার পাত্রে ’ফালূযাজ’ [নামক এক প্রকার মিষ্টান্ন] আনা হল। তিনি [আনাস ইবনে মালেক] তা খেলেন না। তাদেরকে বলা হল যে, ওটার পাত্র পাল্টে দাও। সুতরাং তা পাল্টে কাঠের পাত্রে রাখা হল এবং তা তাঁর নিকট হাজির করা হল। তখন তিনি তা খেলেন।’’[বাইহাকী হাসান সূত্রে]
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৮০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-এর সামনে রূপার পাত্রে ফালূযাজ নামের মিষ্টান্ন আনা হয়েছিল। তিনি তা খাননি। পরে পাত্র বদলে কাঠের পাত্রে রাখা হলে তিনি তা খেয়েছেন। এই ঘটনা রূপার পাত্র ব্যবহারের নিষেধকে বাস্তব জীবনে মানার সুন্দর উদাহরণ। তিনি খাবারকে হারাম বলেননি; বরং যে পাত্রে তা আনা হয়েছিল, সেটি বদলাতে বলেছেন। তাই রূপার পাত্র এড়িয়ে চলা হাদিস আমাদের শেখায়, নিষিদ্ধ মাধ্যম বদলে বৈধ উপায়ে একই কাজ করা যায়। ধর্মীয় সতর্কতা মানে অযথা কঠোরতা নয়; বরং ঠিক জিনিস ঠিকভাবে করা। খাবার বৈধ হলেও পাত্রের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার বৈধ হলেও নিষিদ্ধ পাত্রে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হয়।
- ভুল পাত্র বদলে বৈধ পাত্র ব্যবহার করা সুন্দর সমাধান।
- সাহাবীদের আমল নববী নিষেধ মানার বাস্তব নমুনা।
- ধর্মীয় সতর্কতা দৈনন্দিন খাবার-পানীয়তেও প্রযোজ্য।
