১৮/৩৩৯. অধ্যায়ঃ
খাবারের চাহিদা থাকা কালে খাবার উপস্থিত রেখে এবং পেশাব-পায়খানার খুব চাপ থাকলে উভয় অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ
খাবার হাজির ও চাপের সময় নামায: মনোযোগ রক্ষার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৬২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৬২
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ طَعَامٍ، وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ» . رواه مسلم
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ’’খাবার হাযির থাকা কালীন অবস্থায় নামায নেই, আর পেশাব পায়খানার চাপ সামাল দেওয়া অবস্থায়ও নামায নেই।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৬০, আবূ দাউদ ৮৯, আহমাদ ২৩৬৪৬, ২৩৭৪৯, ২৩৯২৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাযের মনোযোগ রক্ষার খুব বাস্তব শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, খাবার হাজির থাকা অবস্থায় নামায নেই, আর পেশাব-পায়খানার চাপ সামাল দেওয়ার অবস্থাতেও নামায নেই। এখানে মূল বিষয় হলো—সালাত যেন অস্থির মন নিয়ে না হয়। যখন খাবার সামনে থাকে, মন বারবার খাবারের দিকে যেতে পারে। আবার শরীরের চাপ থাকলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে অস্থির হয়ে যায়। এমন অবস্থায় নামাযে খুশু বা একাগ্রতা রাখা কঠিন। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, সালাত শুধু কাজ শেষ করার নাম নয়; বরং শান্ত মন, স্থির শরীর এবং আল্লাহর সামনে মনোযোগ নিয়ে দাঁড়ানোই কাম্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে মনোযোগ নষ্ট করে এমন কারণ আগে দূর করা ভালো।
- খাবার সামনে থাকলে তাড়াহুড়া করে নামাযে দাঁড়ানো উচিত নয়।
- পেশাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাযে দাঁড়ালে মন অস্থির হতে পারে।
- নামাযে শরীর ও মন—দুটির স্থিরতা দরকার।
