১৮/৩৩৪. অধ্যায়ঃ

এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ

اَلْمُرَادُ بِهَالْحَدِيْثُ الَّذِيْ يَكُونُ مُبَاحًا فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ وَفِعْلُهُ وَتَرْكُهُ سَوَاءٌ. فَأَمَّا الْحَدِيْثُ الْمُحَرَّمُ أَوِ الْمَكْرُوهُ فِي غَيْرِ هٰذَا الْوَقْتِ أَشَدُّ تَحْرِيمًا وَكَرَاهَةً، وَأَمَّا الْحَدِيثُ فِي الْخَيْرِ كَمُذَاكَرَةِ الْعِلْمِ وَحِكَايَاتِ الصَّالِحِينَ وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ وَالْحَدِيثُ مَعَ الضَّيْفِ وَمَعَ طَالِبِ حَاجَةٍ وَنَحْوَ ذٰلِكَ فَلَا كَرَاهَةَ فِيهِ، بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ، وَكَذَا الْحَدِيثُ لِعُذْرٍ وَعَارِضٍ لَا كَرَاهَةَ فِيهِ. وَقَدْ تَظَاهَرَتِ الْأَحَادِيثُ الصَّحِيحَةُ عَلٰى كُّلِّ مَا ذَكَرْتُهُ.উদ্দেশ্য, যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে বলা মুবাহ [অর্থাৎ যা করা না করা সমান]। নচেৎ যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে হারাম বা মাকরূহ, সে সব এ সময়ে আরও অধিকভাবে হারাম ও মাকরূহ। পক্ষান্তরে কল্যাণমূলক কথাবার্তা; যেমন জ্ঞানচর্চা, নেক লোকদের কাহিনী ও চরিত্র আলোচনা, মেহমানের সঙ্গে বাক্যালাপ, কারো প্রয়োজন পূরণ প্রসঙ্গে কথা ইত্যাদি বলা মকরুহ নয়; বরং তা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে আকস্মিক কোন ঘটনাবশতঃ বা কোন সঠিক ওযরে কথা বলা অ-পছন্দনীয় কাজ নয়। উক্ত বিবৃতির সমর্থনে বহু বিশুদ্ধ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

এশার নামাজের আদব: আগে ঘুম নয়, পরে অকারণ কথা নয়

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৫৫

عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكرَهُ النَّومَ قَبْلَ العِشَاءِ وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا . متفقٌ عليه

আবূ বারযা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এশার নামাযের আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ৫৪১, ৫৪৭, ৫৬৮, ৫৯৯, ৭৭১, মুসলিম ৬৪৭, নাসায়ী ৪৯৫, ৫৩০, ৯৪৪, আবূ দাউদ ৩৯৮, ইবনু মাজাহ ৬৭৪, দারেমী ১৩০০

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এশার পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, এশার নামাজের ব্যাপারে অলসতা বা অবহেলা করা ঠিক নয়। আগে ঘুমিয়ে পড়লে নামাজ মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। আবার এশার পরে অকারণ কথাবার্তা মানুষকে দেরি করে ঘুমাতে নিয়ে যেতে পারে। হাদিসে বিস্তারিত কারণ বলা হয়নি, তাই আমরা এর বাইরে বাড়তি দাবি করব না। তবে এতটুকু স্পষ্ট যে, নবীজি এশার সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন। একজন মুমিনের জন্য রাতের সময়কে শৃঙ্খলিত রাখা, নামাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা কমানো ভালো অভ্যাস।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এশার নামাজের আগে ঘুমানো নবীজি অপছন্দ করতেন।
  • এশার পরে অকারণ কথাবার্তা থেকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
  • নামাজকে ঘুম ও আলাপের আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
  • রাতের সময় ব্যবহারে শৃঙ্খলা রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন