১৮/৩৩২. অধ্যায়ঃ
‘হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে ক্ষমা কর’ কারো এরূপ দো‘আ করা মাকরূহ; বরং দৃঢ়চিত্তে প্রার্থনা করা উচিত
দোআ করার আদব: দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া
রিয়াদুস সলেহিন : ২/১৭৫৩
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২/১৭৫৩
وَعَنْ أنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمِ المَسْأَلَةَ، وَلاَ يَقُولَنَّ : اَللهم إِنْ شِئْتَ، فَأَعْطِنِي، فَإِنَّهُ لاَ مُسْتَكْرِهَ لَهُ» . متفق عليه
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমাদের কেউ যখন দো’আ করবে, সে যেন দৃঢ়-সংকল্প হয়ে চায়। আর যেন না বলে যে, ’আল্লাহ গো! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও।’ কেননা, তাঁকে বাধ্য করার মত কেউ নেই।’’(বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬৩৩৮, ৭৪৬৪, মুসলিম ২৬৭৮, আহমাদ ১১৫৬৯
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ২/১৭৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দোআ করার সময় ভাষা কেমন হবে তা শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখন কেউ দোআ করবে, সে যেন দৃঢ়-সংকল্প হয়ে চায়। সে যেন না বলে, ‘আল্লাহ গো! তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও।’ কারণ, আল্লাহকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই। এখানে ‘দৃঢ়ভাবে চাওয়া’ মানে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে স্পষ্টভাবে নিজের প্রয়োজন পেশ করা। দোআ কোনো আনুষ্ঠানিক কথা নয়; এটি বান্দার প্রয়োজন, আশা ও বিনয়ের প্রকাশ। তাই দোআয় দ্বিধা, উদাসীনতা বা যেন-তেন ভাষা না এনে আন্তরিকভাবে চাওয়া উচিত। এই হাদিস দোআয় আদব, ভরসা এবং আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোআ করার সময় দৃঢ় সংকল্প নিয়ে চাইতে হবে।
- ‘তুমি চাইলে দাও’ ধরনের ভাষা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
- আল্লাহকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই।
- দোআতে আন্তরিকতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা থাকা দরকার।
