১৮/৩২৮. অধ্যায়ঃ
কষ্ট কল্পনার সাথে গালভরে কথা বলা, মিথ্যা বাক্পটুতা প্রকাশ করা এবং সাধারণ মানুষকে সম্বোধন-কালে উদ্ভট ও বিরল বাক্য সম্বলিত ভাষা প্রয়োগ অবাঞ্ছনীয়
উত্তম চরিত্র: নবীজির প্রিয় হওয়ার পথ
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৭৪৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৭৪৭
وَعَنْ جَابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَيَّ، وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِساً يَومَ القِيَامَةِ، أَحَاسِنكُمْ أَخْلاَقَاً، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ، وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي يَومَ القِيَامَةِ، الثَّرْثَارُونَ وَالمُتَشَدِّقُونَ وَالمُتَفَيْهِقُونَ» . رواه الترمذي، وقال :[ حديث حسن ]
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম এবং অবস্থানে আমার নিকটতম ব্যক্তিদের কিছু সেই লোক হবে যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রে শ্রেষ্ঠতম। আর তোমাদের মধ্যে আমার নিকট ঘৃণ্যতম এবং অবস্থানে আমার থেকে দূরতম হবে তারা; যারা অনর্থক অত্যধিক আবোল-তাবোল বলে ও বাজে বকে এমন বাচাল ও বখাটে লোক; যারা আলস্যভরে বা কায়দা করে টেনে-টেনে কথা বলে। আর অনুরূপ অহংকারীরাও।’’(তিরমিযী হাসান][১]
তিরমিযী ২০১৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৭৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চরিত্র ও কথাবার্তার সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর কাছে প্রিয়তম ও অবস্থানে নিকটতমদের মধ্যে থাকবে উত্তম চরিত্রের মানুষ। আর তাঁর কাছে ঘৃণ্যতম ও দূরতম হবে তারা, যারা অনর্থক বেশি কথা বলে, বাজে বকে, কায়দা করে টেনে কথা বলে এবং অহংকার করে। এতে বোঝা যায়, উত্তম চরিত্র শুধু হাসিমুখ বা ভালো ব্যবহার নয়; জবান সংযমও এর বড় অংশ। মানুষকে বিরক্ত করা, নিজেকে বড় করে দেখানো বা কথা দিয়ে অন্যকে নিচু করা মুমিনের কাজ নয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, কম কথা, ভালো কথা ও বিনয়ী আচরণ মানুষের মর্যাদা বাড়ায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তম চরিত্র নবীজির নৈকট্যের একটি বড় কারণ।
- অনর্থক বেশি কথা বলা অপছন্দনীয়।
- কায়দা করে টেনে কথা বলা ও অহংকার থেকে বাঁচতে হবে।
- ভালো চরিত্রের অংশ হলো জবান সংযম।
