১৮/৩২৮. অধ্যায়ঃ
কষ্ট কল্পনার সাথে গালভরে কথা বলা, মিথ্যা বাক্পটুতা প্রকাশ করা এবং সাধারণ মানুষকে সম্বোধন-কালে উদ্ভট ও বিরল বাক্য সম্বলিত ভাষা প্রয়োগ অবাঞ্ছনীয়
বাগাড়ম্বরকারীদের পরিণতি: কথায় ও কাজে বাড়াবাড়ি নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৪৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৪৫
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّه عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ : » هَلَكَ المُتَنَطِّعُون « قَالَهَا ثَلاثاً. رَوَاهُ مُسْلِم .«المُتَنَطِّعُونَ « : المُبَالِغُونَ في الأَمُورِ .
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’বাগাড়ম্বর-কারীরা ধ্বংস হয়ে গেল [বা ধ্বংস হোক]।’’ এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন।(মুসলিম)[১]
মুসলিম ২৬৭০, আবূ দাউদ ৩৬০৮, আহমাদ ৩৬৪৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ‘বাগাড়ম্বরকারীরা ধ্বংস হয়ে গেল।’ তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন। হাদিসে ‘বাগাড়ম্বরকারী’ বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যারা বিষয়ে বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে, অতিরিক্ত কথা বলে বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জটিল করে তোলে। ইসলাম সহজতা, ভারসাম্য ও সংযম শেখায়। তাই কথা বলার সময় নিজেকে বড় দেখানো, অকারণে কঠিন ভাষা ব্যবহার করা বা সাধারণ বিষয়কে বেশি বাড়িয়ে বলা ভালো নয়। এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সব কথা বলা দরকার নেই এবং সব বিষয়ে অতিরিক্ত ঢং দেখানোও ঠিক নয়। মুমিনের কথায় সরলতা, সত্যতা ও মেপে বলা থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা ও কাজে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- নিজেকে বড় দেখানোর জন্য বাগাড়ম্বর করা ঠিক নয়।
- নবীজি একই সতর্কতা তিনবার বলেছেন, তাই বিষয়টি গুরুতর।
- সরল ও মেপে কথা বলা মুমিনের ভালো অভ্যাস।
