১৮/৩২১. অধ্যায়ঃ
কোন মুনাফিক, পাপী ও বিদআতী প্রভৃতিকে ‘সর্দার’ প্রভৃতি দ্বারা সম্বোধন করা নিষেধ
মুনাফিককে সর্দার বলা নয়: কথার আদব ও ঈমানি সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৩৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৩৪
عَن بُريَدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَقُولُوا لِلْمُنَافِقِ سَيِّدٌ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُ سَيِّداً فَقَدْ أَسْخَطْتُمْ رَبَّكُمْ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ» . رواه أبو داود بإسنادٍ صحيح
বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’মুনাফিককে ’সর্দার’ বলো না। কেননা, সে যদি তোমাদের ’সর্দার’ হয়, তাহলে তোমরা [অজ্ঞাতসারে] তোমাদের মহামহিমান্বিত প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করে ফেলবে।’’[আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে][১]
আবূ দাউদ ৪৯৭৭, আহমাদ ২২৪৩০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুনাফিককে ‘সর্দার’ বলো না। কারণ, যদি সে তোমাদের সর্দার হয়, তাহলে তোমরা অজ্ঞাতসারে তোমাদের মহামহিমান্বিত প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করে ফেলবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সম্মানসূচক ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। যে ব্যক্তি ঈমান ও সত্যের পথে নয়, তাকে এমন মর্যাদার শব্দে ডাকা উচিত নয়, যা তাকে অযথা সম্মানিত করে। হাদিসটি আমাদের কথাবার্তার দায়িত্ব শেখায়। সমাজে পদ, ক্ষমতা বা প্রভাব দেখে সবাইকে প্রশংসার ভাষায় ডাকাই ঠিক নয়। সত্য, চরিত্র ও ঈমানি অবস্থার বিষয়ও বিবেচনা করা দরকার। তবে কাউকে নির্দিষ্টভাবে মুনাফিক বলার বিষয়ে সতর্কতা আলাদা ব্যাপার; এখানে হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো শব্দ ব্যবহারে সাবধানতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার।
- ভুল চরিত্রের ব্যক্তিকে অযথা মর্যাদা দেওয়া ঠিক নয়।
- কথাবার্তায় ঈমানি দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।
- ক্ষমতা বা প্রভাব দেখে প্রশংসা করা নিরাপদ নয়।
