১৮/৩১৭. অধ্যায়ঃ

নিরর্থক কসম

অহেতুক কথায় কথায় নিরর্থক কসম খাওয়ার ব্যাপারে কোন পাকড়াও হবে না এবং তাতে কাফ্ফারাও দিতে হবে না। যেমন অকারণে অনিচ্ছা-পূর্বক অভ্যাসগতভাবে ’আল্লাহর কসম! এটা বটে। আল্লাহর কসম! এটা নয়।’ ইত্যাদি শব্দাবলী মুখ থেকে বের হয়।মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿ لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ [المائ‍دة: ٨٩]অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে অর্থহীন কসমের জন্য পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তিনি তোমাদেরকে সেই কসমের জন্য পাকড়াও করবেন, যাতে তোমরা দৃঢ়টা অবলম্বন করেছ। সুতরাং তার কাফফারা হচ্ছে দশটি মিসকিনকে অন্নদান করা মধ্যম শ্রেণীর খাদ্য হতে, যা তোমরা নিজেদের স্ত্রী-পুত্র, পরিজনকে খেতে দাও অথবা তাদেরকে বস্ত্রদান করা অথবা একজন দাসমুক্ত করা। যদি কেউ [এ ৩টির মধ্যে একটি আদায় করতে] অসমর্থ হয়, তাহলে সে তিনদিন রোযা রাখবে। তোমরা যখন কসম করবে, তখন এটাই তোমাদের কাফফারা [প্রায়শ্চিত্ত]। আর তোমরা তোমাদের কসমসমূহকে রক্ষা কর।[মা-য়েদাহ ৮৯ আয়াত)

অর্থহীন কসম: কথায় কথায় শপথ করার শিক্ষা

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/১৭২৮

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ : أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَة : (لاَ يُؤاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ) فِي قَوْلِ الرَّجُلِ : لاَ وَاللهِ، وَبَلَى وَاللهِ . رواه البخاري

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ’এই আয়াত [যার অর্থ] ’’আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।’’(সূরা মায়েদা ৮৯ আয়াত)এমন লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে [অজ্ঞাতসারে অভ্যাসগতভাবে কথায় কথায় কসম করে] বলে, আল্লাহর কসম! এটা নয়। আল্লাহর কসম! এটা বটে।’(বুখারী)[১]

সহীহুল বুখারী ৪৬১৩, ৬৬৬৩, আবূ দাউদ ৩২৫৪, মুওয়াত্তা মালিক ১০৩২

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/১৭২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না’—এই আয়াত এমন লোকের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যে অভ্যাসগতভাবে কথায় কথায় বলে, আল্লাহর কসম, এটা নয়; আল্লাহর কসম, এটা বটে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মুখের ভাষায় কসমকে খেলাচ্ছলে ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস নয়। যদিও এই বর্ণনায় অর্থহীন কসমের একটি রূপ বোঝানো হয়েছে, তবুও একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর নামকে সম্মানের সাথে ব্যবহার করা। প্রতিটি কথা, প্রতিটি দাবি এবং প্রতিটি কসমের মধ্যে সতর্কতা দরকার। বিশেষ করে অযথা কসম মানুষকে ধীরে ধীরে শপথের গুরুত্ব ভুলিয়ে দিতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কথায় কথায় কসম করা ভালো অভ্যাস নয়।
  • আল্লাহর নাম সম্মানের সাথে উচ্চারণ করা উচিত।
  • অভ্যাসগত কসম ও ইচ্ছাকৃত মিথ্যা কসম এক বিষয় নয়।
  • মুখের ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা ঈমানি আদবের অংশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন