১৮/৩১৬. অধ্যায়ঃ
নির্দিষ্ট বিষয়ে কসম খাওয়ার পর যদি তার বিপরীতে ভালাই প্রকাশ পায়, তাহলে কসমের কাফফারা দিয়ে ভালো কাজটাই করা উত্তম
পরিবারের বিষয়ে কসম করে জেদ রাখা কেন ঠিক নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১৭২৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৭২৭
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ فِي يَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى مِنْ أَنْ يُعْطِي كَفَّارَتَهُ الَّتي فَرَضَ اللهُ عَلَيْهِ» . متفق عَلَيْهِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি আপন পরিবার পরিজনের ব্যাপারে কসম খায় ও [তার চেয়ে উত্তম অন্য কিছুতে জেনেও] তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এই কর্মটি বেশি গোনাহর কারণ হবে এই কর্ম থেকে যে, সে [কসম ভেঙ্গে] সেই কাফফারা আদায় করবে, যা আল্লাহ তার উপর ফরজ করেছেন।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬৬২৫, ৬৬২৬, মুসলিম ১৬৫৫, ইবনু মাজাহ ২১৪৪, আহমাদ ৭৬৮৫, ২৭৪২৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৭২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে কসম করে জেদ ধরে থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যদি আপন পরিবার সম্পর্কে কসম করে এবং তার চেয়ে উত্তম কিছু জানার পরও সেই কসমে অটল থাকে, তাহলে আল্লাহর কাছে এটি তার জন্য বেশি গুনাহর কারণ হতে পারে; এর চেয়ে ভালো হলো আল্লাহ যে কাফফারা ফরজ করেছেন তা আদায় করা। এখানে কসমের কাফফারা শুধু আইনি বিষয় নয়, বরং সম্পর্ক বাঁচানোর শিক্ষাও আছে। অনেক সময় ঘরের বিষয়ে মানুষ রাগে কসম করে বসে। পরে বুঝলেও অহংকার বা জেদের কারণে তা ছাড়ে না। এই হাদিস শেখায়, ভালো পথ বুঝলে কাফফারা দিয়ে নরম হওয়া উত্তম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারের বিষয়ে কসম করে জেদ ধরে রাখা ক্ষতিকর হতে পারে।
- উত্তম পথ জানা গেলে কসমের কাফফারা দিয়ে তা গ্রহণ করা উচিত।
- পরিবারে রাগের কসম সম্পর্ককে কঠিন করে তুলতে পারে।
- আল্লাহর ফরজ করা কাফফারা আদায় করে ভালো পথে ফেরা দরকার।
