১৮/৩১৬. অধ্যায়ঃ
নির্দিষ্ট বিষয়ে কসম খাওয়ার পর যদি তার বিপরীতে ভালাই প্রকাশ পায়, তাহলে কসমের কাফফারা দিয়ে ভালো কাজটাই করা উত্তম
শপথের কাফফারা: ভালো কাজের পথে ফিরে আসার নিয়ম
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১৭২৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৭২৫
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ، فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْراً مِنْهَا، فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ، وَلْيَفْعَلِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ» . رواه مسلم
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি কোন কিছুর ব্যাপারে কসম খায় এবং তা ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পায়, তাহলে সে যেন তার কসমের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটি গ্রহণ করে।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৬৫০, তিরমিযী ১৫৩০, মুওয়াত্তা মালিক ১০৩৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৭২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে কসম করে, পরে দেখে যে অন্য কাজটি বেশি ভালো, সে যেন কসমের কাফফারা দেয় এবং উত্তম কাজটি করে। এখানে মূল বিষয় হলো, একজন মুসলিমের কাজ হওয়া উচিত কল্যাণের দিকে যাওয়া। কসম করে ফেলেছি বলে ভুল বা কম ভালো সিদ্ধান্তে আটকে থাকা ঠিক নয়। আবার কসম ভেঙে দায় এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়; কাফফারা দিতে হবে। তাই হাদিসটি কসমের আদব, দায়িত্ব এবং ভালো কাজের গুরুত্ব একসাথে শেখায়। বিশেষ করে পরিবার, সম্পর্ক, দান, সাহায্য বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কেউ ভুল কসম করলে এই শিক্ষা তাকে সঠিক পথে ফিরতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসমের চেয়ে ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- কসম ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হবে।
- ভুল সিদ্ধান্তে জেদ করে থাকা ভালো নয়।
- কল্যাণ দেখলে তা গ্রহণ করা নববী শিক্ষার অংশ।
