১৮/৩১৪. অধ্যায়ঃ
গায়রুল্লাহর নামে শপথ করা নিষেধ
আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টি; যেমন পয়গম্বর, কা’বা, ফিরিশ্তা, আসমান, বাপ-দাদা, জীবন, আত্মা, মাথা, রাজার জীবন, রাজার অনুগ্রহ, অমুকের কবর, আমানত প্রভৃতির কসম খাওয়া নিষেধ। আমানতের কসম অধিকতর কঠিন-ভাবে নিষিদ্ধ।
আমানতের কসম খাওয়া নিষেধ: শপথের সঠিক আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৭১৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৭১৮
وَعَنْ بُريدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنْ حَلَفَ بِالأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا. حديث صحيح، رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি আমানতের কসম খাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’’[আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ-সূত্রে][১]
আবূ দাউদ ৩২৫৩, আহমাদ ২২৪৭১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৭১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমানতের কসম খাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর। এতে বোঝা যায়, আমানতকে কসমের বস্তু বানানো ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কসমের বিষয়টি শুধু কথার জোর বাড়ানোর জন্য নয়; বরং এটি বিশ্বাস, সম্মান ও দায়িত্বের সঙ্গে জড়িত। আগে যে হাদিসগুলোতে আল্লাহর নামে কসম বা চুপ থাকার কথা এসেছে, এই হাদিসও একই ধারার সতর্কতা দেয়। “আমানতের কসম”, “কসম খাওয়ার নিয়ম”, “শপথের আদব” — এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড। কথাবার্তায় অভ্যাসগত কসম থেকে সাবধান হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানতের নামে কসম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- কসমের ভাষা হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
- শপথের ক্ষেত্রে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানা জরুরি।
- মুখের কথায় ঈমানী শালীনতা বজায় রাখা দরকার।
