১/১৬. অধ্যায়ঃ

সুন্নাহ পালনের গুরুত্ব ও তার কিছু আদব প্রসঙ্গে

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ ﴾ [الحشر: ٧]অর্থাৎ “আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।” (সূরা হাশ্‌র ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤ ﴾ [النجم: ٣، ٤]অর্থাৎ “সে মনগড়া কথাও বলে না। তা তো অহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।” (সূরা নাজ্‌ম ৩-৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ ﴾ [ال عمران: ٣١]অর্থাৎ “বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩১ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ ﴾ [الاحزاب: ٢١]অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব ২১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥ ﴾ [النساء: ٦٥]অর্থাৎ “কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা বিশ্বাসী (মু’মিন) হতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে, অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।” (সূরা নিসা ৬৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ﴾ [النساء: ٥٩]قَالَ العلماء : معناه إِلَى الكتاب والسُنّة،অর্থাৎ “আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।” (ঐ ৫৯ আয়াত)আলেমগণ বলেন, এর অর্থ হলঃ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও।তিনি আরো বলেন,﴿ مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠ ﴾ [النساء: ٨٠]অর্থাৎ “যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।” (ঐ ৮০ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴿ وَإِنَّكَ لَتَهۡدِيٓ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ ٥٢ صِرَٰطِ ٱللَّهِ ﴾ [الشورا: ٥٢، ٥٣]অর্থাৎ “আর নিশ্চয়ই তুমি সরল পথ প্রদর্শন কর---সেই আল্লাহর পথ----।” (সূরা শুরা ৫২ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴾ [النور: ٦٣]অর্থাৎ “সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।” (সূরা নূর ৬৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَٱذۡكُرۡنَ مَا يُتۡلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱلۡحِكۡمَةِۚ ﴾ [الاحزاب: ٣٤]অর্থাৎ “আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানের কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরা আহযাব ৩৪ আয়াত)

হাজারে আসওয়াদ চুমু: ইবাদতে সুন্নাহ অনুসরণের শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১৭১

وعن عابس بن ربيعة قال‏:‏ رأيت عمر بن الخطاب ، رضي الله عنه ، يقبل الحجر -يعنى الأسود- ويقول‏:‏إني أعلم أنك حجر ما تنفع ولا تضر، ولوا أني رأيت رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يقبلك ما قبلتك‏.‏ ‏(‏‏‏متفق عليه‏‏‏)‏ ‏.‏

আবেস ইবনু রাবি‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উমার ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে ‘হাজারে আসওয়াদ’ চুমু দিতে দেখেছি, তিনি বলছিলেন, ‘আমি সুনিশ্চিত জানি যে, তুমি একটা পাথর; তুমি না উপকার করতে পার, আর না অপকার? আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তোমাকে চুমু দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুমু দিতাম না।[১]

সহীহুল বুখারী ১৫৯৭, ১৬০৫, ১৬১০, মুসলিম ১২৭০, তিরমিযী ৮৬০, নাসায়ী ২৯৩৭, ২৯৩৮, আবূ দাউদ ১৮৭৩, ২৯৪৩, আহমাদ ১০০, ১৩২, ১৭৭, ২২৭, ২৫৫, ২৭৬, ৩২৭, ৩৬৩, ৩৮৩, ৩৮২, মুওয়াত্তা মালেক -৮২৪, দারেমী ১৮৬৪

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৭১-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: সুন্নাহ অনুসরণ। এই হাদিসে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে হাজারে আসওয়াদ চুমু দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমি জানি তুমি একটি পাথর; তুমি উপকার বা অপকার করতে পার না। যদি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তোমাকে চুমু দিতে না দেখতাম, আমি তোমাকে চুমু দিতাম না। এই কথায় ইবাদতের একটি পরিষ্কার শিক্ষা আছে—মুসলিম কোনো কাজ করে পাথরের নিজস্ব ক্ষমতার কারণে নয়, বরং রাসূলের অনুসরণ হিসেবে। এখানে সুন্নাহ মানা, সীমা জানা এবং বিশ্বাসকে পরিষ্কার রাখার শিক্ষা আছে। উমার (রাঃ)-এর কথায় বোঝা যায়, ইবাদতের মূল্য রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দেখানো পদ্ধতি অনুসরণে। তাই হাজারে আসওয়াদ চুমু দেওয়া হলো সুন্নাহর অনুসরণ, কোনো পাথরকে স্বাধীনভাবে উপকার-অপকারকারী মনে করা নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইবাদতে রাসূলের অনুসরণই মূল ভিত্তি।
  • হাজারে আসওয়াদ নিজে উপকার বা অপকার করতে পারে না।
  • সুন্নাহর কারণে কোনো আমল করলে তা পরিষ্কার বিশ্বাসের সাথে করা উচিত।
  • ধর্মীয় কাজে নিজের ধারণার চেয়ে নবীর পথকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন