১৮/৩১০. অধ্যায়ঃ
মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা: মসজিদে নববীর আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৭০৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৭০৯
وَعَنْ السَّائِبِ بنِ يَزِيدَ الصَّحَابِي رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ فِي المَسْجِدِ فَحَصَبَنِي رَجُلٌ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَ: اِذْهَبْ فَأْتِنِي بِهَذَينِ، فَجِئْتُهُ بِهِمَا، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَنْتُمَا ؟ فَقَالاَ: مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ، فَقَالَ: لَوْ كُنْتُمَا مِنْ أَهْلِ البَلَدِ، لأَوْجَعْتُكُمَا، تَرْفَعَانِ أَصْوَاتَكُمَا فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ! رواه البخاري
সাহাবী সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি মসজিদে নববীতে ছিলাম। এমন সময় একটি লোক আমাকে কাঁকর ছুঁড়ে মারল। আমি তার দিকে তাকাতেই দেখি, তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেন, ’যাও, ঐ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস।’ আমি তাদেরকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেন, ’তোমরা কোথাকার?’ তারা বলল, ’আমরা তায়েফের অধিবাসী।’ তিনি বললেন, ’তোমরা যদি এই শহর [মদিনার] লোক হতে, তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছ!’(বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৪৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৭০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) বলেন, তিনি মসজিদে নববীতে ছিলেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁকে কাঁকর ছুঁড়ে ইশারা করে দুজন লোককে আনতে বললেন। তারা তায়েফের অধিবাসী ছিল। উমার (রা.) বললেন, তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তাহলে তিনি কঠোর শাস্তি দিতেন; কারণ তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছিল। হাদিসটি মসজিদের আদব ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। মসজিদে কথা বলা লাগতে পারে, কিন্তু উচ্চস্বরে কথা বলে অন্যের ইবাদত, মনোযোগ বা সম্মান নষ্ট করা উচিত নয়। “মসজিদে উচ্চস্বরে কথা”, “মসজিদে নববীর আদব” এখানে মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- মসজিদে নববীর মর্যাদা বিশেষভাবে রক্ষা করা দরকার।
- অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটানো ঠিক নয়।
- সাহাবীরা মসজিদের আদবের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন।
