১৮/৩০৬. অধ্যায়ঃ
শিকার করা, পশু রক্ষা বা ক্ষেত খামার, ঘরবাড়ি পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকর পোষা হারাম
ক্ষেত পাহারা ও প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পোষার সতর্কতা
রিয়াদুস সলেহিন : ২/১৬৯৮
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২/১৬৯৮
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ أَمْسَكَ كَلْباً، فَإِنَّهُ ينْقُصُ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَومٍ قِيرَاطٌ إِلاَّ كَلْبَ حَرْثٍ أَوْ مَاشِيَةٍ . متفق عليهوَفِي رِوَايَةٍ لِمُسلِمٍ : مَنِ اقْتَنَى كَلْباً لَيْسَ بِكَلْبِ صَيْدٍ، وَلاَ مَاشِيَةٍ وَلاَ أَرْضٍ، فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ قِيرَاطَانِ كُلَّ يَوْمٍ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি কুকুর বাঁধে [পালে], তার আমল [নেকী] থেকে প্রত্যহ এক কিরাত পরিমাণ কমে যায়।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]অন্য বর্ণনায় আছে, ’’যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে, যা শিকারের জন্য নয়, পশু রক্ষার জন্য নয় এবং ক্ষেত পাহারার জন্য নয়, সে ব্যক্তির নেকী থেকে প্রত্যেক দিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।’’[কিরাত ঠিক কত পরিমাণ, তা আল্লাহই জানেন।]
সহীহুল বুখারী ২৩২২, ৩৩২৪, মুসলিম ১৫৭৫, তিরমিযী ১৪৯০, নাসায়ী ৪২৮১, ৪২৯০, আবূ দাউদ ২৮৪৪, ইবনু মাজাহ ৩২০৪, আহমাদ ৭৫৬৬, ৮৩৪২, ৯২০৯, ৯৭৬৫
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ২/১৬৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যে ব্যক্তি কুকুর বাঁধে বা পালে, তার আমল থেকে প্রতিদিন এক কিরাত পরিমাণ কমে যায়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে কুকুর শিকারের জন্য নয়, পশু রক্ষার জন্য নয় এবং ক্ষেত পাহারার জন্য নয়, সে কুকুর পোষার কারণে প্রতিদিন দুই কিরাত সওয়াব কমে যায়। এখানে আগের হাদিসের সঙ্গে আরেকটি প্রয়োজন যোগ হয়েছে—ক্ষেত পাহারা। এতে বোঝা যায়, কুকুর রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শখ বা অকারণ কুকুর পোষা আর বাস্তব প্রয়োজনের জন্য রাখা এক নয়। তবে কিরাতের আসল পরিমাণ আল্লাহই ভালো জানেন। মুসলিমের উচিত নিজের আমল রক্ষা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া এমন কাজে না জড়ানো, যা নেকী কমার কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকার, পশু রক্ষা ও ক্ষেত পাহারার প্রয়োজন আলাদাভাবে এসেছে।
- প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পোষা নেকীর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- কিরাতের পরিমাণ আল্লাহই ভালো জানেন—এ বিষয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
- নিজের আমল রক্ষা করা মুসলিমের সচেতনতার অংশ।
