১৮/৩০৬. অধ্যায়ঃ
শিকার করা, পশু রক্ষা বা ক্ষেত খামার, ঘরবাড়ি পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকর পোষা হারাম
কুকুর পালার বিধান: শিকারি ও পশু-রক্ষক ছাড়া সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৬৯৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৬৯৭
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنِ اقْتَنَى كَلْباً إِلاَّ كَلْبَ صَيْدٍ أَوْ مَاشِيَةٍ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَومٍ قِيرَاطَانِ». متفق عليه. وفي رواية : «قِيرَاطٌ»
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ’’যে ব্যক্তি শিকারি অথবা পশু-রক্ষক কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পোষে, তার নেকী থেকে প্রত্যেক দিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১] অন্য বর্ণনায় আছে, ’’এক কিরাত সওয়াব কমে যায়।’’
সহীহুল বুখারী ৫৪৮০, ৫৪৮১, ৫৪৮২, মুসলিম ১৫৭৪, তিরমিযী ১৪৮৭, নাসায়ী ৪২৮৪, ৪২৮৬, ৪২৮৭, ৪২৯১, আহমাদ ৪৪৬৫, ৪৫৩৫, ৪৭৯৮, ৪৯২৫, ৫০৫৩, ৫১৪৯, ৫২৩১, ৫৩৭০, ৫৪৮১, ৫৭৪১, ৫৮৮৯, ৬৩০৬, ৬৪০৭, মুওয়াত্তা মালিক ১৮০৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৬৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকারি অথবা পশু-রক্ষক কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পোষে, তার নেকী থেকে প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়। অন্য বর্ণনায় এক কিরাতের কথা এসেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—অপ্রয়োজনীয়ভাবে কুকুর পালা মুসলিমের আমলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখানে দুই ধরনের প্রয়োজনের কথা এসেছে: শিকার এবং পশু রক্ষা। তাই হাদিসটি সব প্রয়োজনকে একভাবে আলোচনা করছে না; বরং নির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পোষার ব্যাপারে সতর্ক করছে। একজন মুসলিমের কাছে নেক আমল মূল্যবান। তাই শখ, অভ্যাস বা অপ্রয়োজনীয় কারণে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা প্রতিদিনের সওয়াব কমার কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকারি বা পশু-রক্ষক কুকুরের প্রয়োজন আলাদাভাবে উল্লেখ হয়েছে।
- অপ্রয়োজনীয় কুকুর পোষা আমলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- নেকীর মূল্য বোঝা একজন মুসলিমের জন্য জরুরি।
- কোনো কাজের প্রয়োজন আছে কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।
