১৮/৩০৩. অধ্যায়ঃ
গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
যারা কাঁকর, যবদানা ইত্যাদি মেরে [ফালনামা খুলে বা হাত চালিয়ে বা হস্তরেখা পড়ে অথবা রাশি গণনা করে] ভাগ্য-ভবিষ্যৎ তথা অজানা ও গায়েবী বিষয়ের খবর বলে, তাদের নিকট এসে ঐ শ্রেণীর কিছু জিজ্ঞাসা করা বৈধ নয়।
গণকের কাছে যাওয়া নিষেধ: অশুভ ধারণা যেন কাজে বাধা না দেয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৬৮১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৬৮১
وَعَنْ مُعاوِيَةَ بنِ الحَكَمِ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِالجَاهِليَّةِ، وَقَدْ جَاءَ اللهُ تَعَالَى بِالإِسْلاَمِ، وَإِنَّ مِنَّا رِجَالاً يَأتُونَ الكُهَّانَ ؟ قَالَ: «فَلاَ تَأتِهِمْ» قُلْتُ : وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ ؟ قَالَ: «ذَلِكَ شَيْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ، فَلاَ يَصُدُّهُمْ» قُلْتُ : وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ ؟ قَالَ: «كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ، فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ، فَذَاكَ» . رواه مسلم
মুআবিয়াহ ইবনে হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহেলী যুগের অত্যন্ত নিকটবর্তী [অর্থাৎ আমি অল্পদিন হল অন্ধ-যুগ থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছি] এবং বর্তমানে আল্লাহ আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছেন। আমাদের কিছু লোক গণকদের নিকট [ভাগ্য-ভবিষ্যৎ জানতে] যায়।’ তিনি বললেন, ’’তুমি তাদের কাছে যেও না।’’ আমি বললাম, ’আমাদের কিছু লোক অশুভ লক্ষণ মেনে চলে।’ তিনি বললেন, ’’এ এমন জিনিস, যা তারা নিজেদের অন্তরে অনুভব করে। সুতরাং এ [সব ধারণা] যেন তাদেরকে [বাঞ্ছিত কর্মে] বাধা না দেয়।’’ আমি নিবেদন করলাম, ’আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টেনে শুভাশুভ নিরূপণ করে।’ তিনি বললেন, ’’[প্রাচীনযুগে] এক পয়গম্বর দাগ টানতেন। সুতরাং যার দাগ টানার পদ্ধতি উক্ত পয়গম্বরের পদ্ধতি অনুসারে হবে, তা সঠিক বলে বিবেচিত হবে [নচেৎ না]।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৩৭, নাসায়ী ১২১৮, আবূ দাউদ ৯৩০, ৯৩১, ৩২৮২, ৩৯০৯, আহমাদ ২৩২৫০, ২৩২৫৬, দারেমী ১৫০২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৬৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন সাহাবী নতুন মুসলিম হওয়ার পর নিজের সমাজের কিছু প্রচলিত কাজ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে প্রশ্ন করেন। কিছু লোক গণকের কাছে যেত, কেউ অশুভ লক্ষণ মানত, আবার কেউ দাগ টেনে শুভাশুভ বোঝার চেষ্টা করত। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم গণকের কাছে যেতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অশুভ লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন ভাবনা মানুষের মনে আসতে পারে, কিন্তু তা যেন তাকে প্রয়োজনীয় কাজ থেকে ফিরিয়ে না দেয়। দাগ টানার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে এক পয়গম্বর এমন করতেন; যার পদ্ধতি সেই পয়গম্বরের পদ্ধতির সঙ্গে মিলে, সেটিই সঠিক। তাই মূল শিক্ষা হলো—গণকের কথা, অশুভ ধারণা ও অনিশ্চিত পদ্ধতির উপর জীবন চালানো ঠিক নয়। একজন মুসলিমের ভরসা হওয়া উচিত আল্লাহর উপর, ভয় বা কুসংস্কারের উপর নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গণক বা ভাগ্য বলে এমন লোকদের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- মনে অশুভ ভাবনা এলেও তা যেন ভালো কাজ থেকে ফিরিয়ে না দেয়।
- অজানা বিষয়ের ব্যাপারে অনুমাননির্ভর পথ অনুসরণ করা নিরাপদ নয়।
- ইসলামে নতুন আসা মানুষও প্রশ্ন করে সঠিক পথ জানতে পারে।
