১৮/২৯০. অধ্যায়ঃ
বেগানা নারী এবং কোনো সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ﴾[النور : ٣٠]অর্থাৎ ঈমানদারগণকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে।(সূরা নূর ৩০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴾[الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ﴾[غافر: ١٩]অর্থাৎ চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।(সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ﴾[الفجر: ١٤]অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।(সূরা ফজর ১৪ আয়াত)
পর্দা ও দৃষ্টি সংযমের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৬৩৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৬৩৪
وَعَنْ أمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : كُنْتُ عِنْدَ رَسُوْلِ اللَّه وَعِنْدَهُ مَيْمُوْنَهُ، فَأَقْبَلَ ابْنُ أُمُّ مَكْتُوْمٍ، وَذَلِكَ بَعْدَ أنْ أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اِحْتَجِبَا مِنْهُ» فَقُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهِ ألَيْسَ هُوَ أعْمىٰ : لَا يُبْصِرُنَا، وَلَا يَعْرِفُنَا ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «أفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ ؟» رواه أبو داود والترمذي وقَالَ: حَدِيثٌ حسنٌ صَحِيحٌ
উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিতঃ
উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর নিকট মাইমুনাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম এসে হাজির হন। এটা আমাদেরকে পর্দার হুকুম দেয়ার পরবর্তী ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ’’তার সম্মুখে পর্দা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদেরকে দেখতে পায় না, চিনতেও পারে না। নবী (ﷺ) বললেন: তোমরা দু’জনও কি অন্ধ? তাকে কি তোমরা দেখতে পাও না?’’ [আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন] [১]
আমি [আলবানী) বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন। আর এর সনদের মধ্যে উম্মু সালামার দাস নাবহান রয়েছেন। তার ব্যাপারে অজ্ঞতা রয়েছে। অর্থাৎ তিনি মাজহূল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন শাইখ আলবানী রচিত গ্রন্থ ‘‘আররাদ্দুল মুকহিম’’ [১/৬২ হা নং ৫)। আবূ দাউদ ৪১১২, তিরমিজি ২৭৭৮। আহমাদ ২৬৫৭৯।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৬৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় পর্দা ও দৃষ্টি সংযম। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ছিলেন এবং মাইমুনাহ (রাঃ)-ও সেখানে ছিলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম এলেন। পর্দার হুকুম দেওয়ার পরের ঘটনা হওয়ায় নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের বললেন, তার সামনে পর্দা কর। তারা বললেন, তিনি তো অন্ধ; তিনি আমাদের দেখেন না এবং চিনতেও পারেন না। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তোমরা দুজনও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাও না? হাদিসটি দেখায়, পর্দা শুধু অন্যের দৃষ্টির বিষয় নয়; নিজের দৃষ্টি ও শালীনতার বিষয়ও। তাই দৃষ্টি সংযম, পর্দা ও সতর্ক আচরণ—সব মিলেই হাদিসের শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পর্দার বিষয়ে নিজের দৃষ্টির দিকটিও বিবেচ্য।
- অন্য কেউ না দেখলেও নিজের চোখ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- শালীনতা শুধু বাহ্যিক বাধা নয়, অন্তরের সতর্কতার সঙ্গেও যুক্ত।
- পর্দা ও দৃষ্টি সংযম একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
