১৮/২৮২. অধ্যায়ঃ
দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
মহান আল্লাহ বলেন,﴿ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا﴾ [النساء : ٣٦]অর্থাৎ পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ আত্মম্ভরি দাম্ভিককে ভালবাসেন না।(সূরা নিসা ৩৬ আয়াত)
অন্যায় শাস্তির কাফফারা: গোলাম মুক্ত করার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১৬১৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১৬১৩
وعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ ضَرَبَ غُلاَمَاً لَهُ حَدّاً لَمْ يَأتِهِ، أَوْ لَطَمَهُ، فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ» . رواه مسلم
ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে এমন অপরাধের সাজা দেয়, যা সে করেনি অথবা তাকে চড় মারে, তাহলে তার প্রায়শ্চিত্ত হল, সে তাকে মুক্ত করে দেবে।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৬৫৭, আবূ দাউদ ৬১৬৮, আহমাদ ৪৭৬৯, ৫০৩১, ৫২৪৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের গোলামকে এমন অপরাধের জন্য সাজা দেয় যা সে করেনি, অথবা তাকে চড় মারে, তার প্রায়শ্চিত্ত হলো তাকে মুক্ত করে দেওয়া। এখানে অন্যায় শাস্তির বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। কারো ওপর ক্ষমতা থাকলেই তাকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার তৈরি হয় না, বিশেষ করে সে অপরাধ না করলে। চড় মারা, অপমান করা বা ভুল অভিযোগে শাস্তি দেওয়া জুলুমের মধ্যে পড়ে। হাদিসটি অধীনস্থদের অধিকার, ন্যায় বিচার, রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং ভুল করলে সংশোধনের গুরুত্ব শেখায়। দাস-মালিকের সেই সময়ের বাস্তব অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم মানুষকে অন্যায়ের দায় বুঝিয়েছেন। সরাসরি শিক্ষাটি হলো—অন্যায়ভাবে আঘাত করলে তা হালকা নয়; তার গুরুতর দায় আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধ না করেও কাউকে শাস্তি দেওয়া জুলুম।
- গোলামকে চড় মারলে কাফফারা হিসেবে মুক্ত করার কথা এসেছে।
- ক্ষমতা থাকলেই অন্যায় শাস্তি দেওয়া যায় না।
- ভুল করলে সংশোধনের পথে ফিরে আসা দরকার।
