১৮/২৮০. অধ্যায়ঃ
তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ﴾[الحجرات: ١٠]অর্থাৎ সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾[المائدة: ٢]অর্থাৎ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য করো না। (সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত)
সালাম দিয়ে সম্পর্ক ঠিক করা: তিন দিনের বেশি ত্যাগ নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/১৬০৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/১৬০৫
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أنًّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «لَا يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أنْ يَّهْجُرَ مُؤْمِناً فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَإَنْ مَرَّتْ بِهِ ثَلَاثٌ، فَلْيَلْقَهُ، وَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، فَقَدِ اشْتَرَكَا فِيْ الْأَجْرِ، وَإٍنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَقَدْ بَاءَ بِالْإِثْمِ، وَخَرَجَ الْمُسَلِّمُ مِنَ الْهَجْرَةِ». رواهُ أبو داود بإسنادٍ حسن . قال أبو داود : إذا كَانَتِ الهجْرَةُ للهِ تَعالى فَلَيْس مِنْ هذَا في شيءٍ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন মুমিন লোকের পক্ষে অন্য কোন মুমিন লোককে তিনদিনের বেশি ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। তিন দিন অতিক্রম হওয়ার পর যদি সাক্ষাৎ করে ও তাকে সালাম দেয় এবং অপরজনও সালামের জবাব দেয়, তবে দু’জনই সাওয়াব পাবে। যদি সে সালামের উত্তর না দেয়, তাহলে গুনাহগার হবে এবং সালামকারী ত্যাগ করার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যাবে। [আবূ দাঊদ হাদিসটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন][১]আবু দাউদ বলেন, তবে যদি মহান আল্লাহর কারণে সে তাকে পরিত্যাগ করে থাকে তবে সেটা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
আমি [আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এর সনদে হিলাল মাদানী রয়েছেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। দেখুন ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ [২০২৯)।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/১৬০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন দিনের বেশি কোনো মুমিনকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয় বলা হয়েছে। তিন দিন পেরিয়ে গেলে দেখা হলে সালাম দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। যদি অপর ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয়, তাহলে দুজনই সাওয়াবে অংশীদার হবে। আর যদি উত্তর না দেয়, তাহলে গুনাহ তার ওপর থাকবে এবং সালামদাতা ত্যাগ করার গুনাহ থেকে বের হয়ে যাবে। এতে বোঝা যায়, সম্পর্ক মেরামতের একটি সহজ ও সুন্দর পথ হলো সালাম দেওয়া। হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, যদি আল্লাহর কারণে পরিত্যাগ করা হয়, তবে তা এই সাধারণ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত নয়—এটি আবূ দাঊদের মন্তব্য হিসেবে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, মুসলিম ভাইয়ের সাথে রাগ দীর্ঘ করা নয়; বরং সালাম, ভদ্রতা ও মীমাংসার মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনকে তিন দিনের বেশি ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়।
- সালাম দেওয়া সম্পর্ক মেরামতের একটি সরাসরি পথ।
- সালামের জবাব দিলে উভয়েই সাওয়াবে অংশ পায়।
- জবাব না দিলে সালামদাতা ত্যাগের গুনাহ থেকে বের হয়।
