১৮/২৭৭. অধ্যায়ঃ
চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ﴾[المائدة: ١]অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।(সূরা মায়েদাহ ১ নং আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا﴾[الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বানী ঈস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
বিশ্বাসঘাতকের পতাকা: অঙ্গীকার ভঙ্গের প্রকাশ্য পরিণতি
রিয়াদুস সলেহিন : ২/১৫৯৩
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২/১৫৯৩
وعَنِ ابنِ مَسعودٍ، وَابنِ عُمَرَ، وَأَنَسٍ - رَضِيَ الله عَنهُم - قَالُوا : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «لِكُلِّ غادِرٍ لِواءٌ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ : هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ» . متفق عَلَيْهِ
ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে [বিশেষ] পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে যে, এটা অমুক ব্যক্তির [বিশ্বাসঘাতকতার] প্রতীক।’’(বুখারী, মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৩১৮৬, ৩১৮৭, ৩১৮৮, ৬১৭৭, ৬১৭৮, ৬৯৬৬, ৭১১১, মুসলিম ১৭৩৬, ১৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৮৭২, আহমাদ ৩৮৯০, ২৯৪৯, ৪১৮৯, ১২০৩৫, ১২১০৯, ১৩২০০, ১৩৪৪৬, দারেমী ২৫৪২
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ২/১৫৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি বিশেষ পতাকা থাকবে। বলা হবে, এটা অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বাসঘাতকতা শুধু দুনিয়ার সম্পর্ক নষ্ট করে না; আখিরাতেও তা প্রকাশিত হওয়ার বিষয়। কেউ কথা দিয়ে কথা না রাখলে, চুক্তি ভঙ্গ করলে বা আস্থার জায়গায় আঘাত করলে তা সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আমানত ও অঙ্গীকারকে হালকা করে দেখা যাবে না। মানুষ হয়তো দুনিয়ায় কিছু লুকাতে পারে, কিন্তু কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতকতা চিহ্নিত হয়ে প্রকাশ পাবে। তাই মুমিনের উচিত কথা, দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতিতে সতর্ক থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিশ্বাসঘাতকতা আখিরাতে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়।
- চুক্তি ও অঙ্গীকারকে হালকা করে দেখা যাবে না।
- আস্থার জায়গায় আঘাত করা বড় নৈতিক বিপদ।
- কথা ও দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকা দরকার।
