১৮/২৭৬. অধ্যায়ঃ
জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।(সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
কারও পরিবারে প্ররোচনা নয়: সম্পর্ক নষ্ট করার ভয়াবহতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১৫৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৫৯১
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَبَّبَ زَوْجَةَ امْرِئٍ، أَوْ مَمْلُوكَهُ، فَلَيْسَ مِنَّا» . رواهُ أَبُو داود
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে কারো স্ত্রী অথবা কারো ভৃত্যকে প্ররোচনা বা প্রলোভন দ্বারা নষ্ট করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’’[আবূ দাঊদ][১]
আবূ দাউদ ৫১৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৫৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারও স্ত্রী অথবা কারও ভৃত্যকে প্ররোচনা বা প্রলোভন দিয়ে নষ্ট করবে, সে তাঁর দলভুক্ত নয়। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর, কারণ এখানে মানুষের ঘর, বিশ্বাস ও সম্পর্ক ভাঙার বিষয় আছে। কারও স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া, সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা, বা কারও অধীনস্থ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করা—এসব আচরণ সমাজে অশান্তি ছড়ায়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, অন্যের ঘর ও সম্পর্কের ভেতরে ফিতনা তৈরি করা থেকে দূরে থাকতে হবে। পরামর্শ দিতে হলে ন্যায়ের কথা বলা যায়, কিন্তু প্রলোভন দিয়ে সম্পর্ক ভাঙা বা দায়িত্ব নষ্ট করা ইসলামী চরিত্র নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে প্ররোচিত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- অন্যের ঘর ও সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা থেকে বাঁচতে হবে।
- প্রলোভন দিয়ে দায়িত্ব বা আনুগত্য নষ্ট করা সঠিক নয়।
- পরামর্শ হলে তা ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে, ফিতনামূলক নয়।
