১/১৫. অধ্যায়ঃ

আমলের রক্ষণাবেক্ষণ

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ ۞أَلَمۡ يَأۡنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَن تَخۡشَعَ قُلُوبُهُمۡ لِذِكۡرِ ٱللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ ٱلۡحَقِّ وَلَا يَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلُ فَطَالَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡأَمَدُ فَقَسَتۡ قُلُوبُهُمۡۖ ﴾ [الحديد: ١٦]অর্থাৎ “যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের সময় কি আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় ভক্তি-বিগলিত হবে? এবং পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের মত তারা হবে না? বহুকাল অতিক্রান্ত হয়ে গেলে যাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়েছিল।” (সূরা হাদীদ ১৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَقَفَّيۡنَا بِعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡإِنجِيلَۖ وَجَعَلۡنَا فِي قُلُوبِ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ رَأۡفَةٗ وَرَحۡمَةٗۚ وَرَهۡبَانِيَّةً ٱبۡتَدَعُوهَا مَا كَتَبۡنَٰهَا عَلَيۡهِمۡ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ رِضۡوَٰنِ ٱللَّهِ فَمَا رَعَوۡهَا حَقَّ رِعَايَتِهَاۖ ﴾ [الحديد: ٢٧]অর্থাৎ “অতঃপর আমি তাদের অনুগামী করেছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করেছিলাম মারয়্যাম তনয় ঈসাকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইঞ্জীল এবং তার অনুসারীদের অন্তরে দিয়েছিলাম করুণা ও দয়া; কিন্তু সন্ন্যাসবাদ এটা তো তারা নিজেরা প্রবর্তন করেছিল, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিধান ছাড়া আমি তাদেরকে এ (সন্ন্যাসবাদে)র বিধান দিইনি; অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি।” (সূরা হাদীদ ২৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّتِي نَقَضَتۡ غَزۡلَهَا مِنۢ بَعۡدِ قُوَّةٍ أَنكَٰثٗا ﴾ [النحل: ٩٢]অর্থাৎ “তোমরা সে নারীর মত হয়ো না, যে তার সুতা মজবুত করে পাকাবার পর ওর পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।” (সূরা নাহ্‌ল ৯২ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴿ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴾ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার রবের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)এ মর্মের অন্যতম হাদীস আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ-র হাদীস, ’’সেই আমল তাঁর নিকট প্রিয়তম ছিল, যা তার আমলকারী লাগাতার করে থাকে।’’ যা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে গত হয়েছে।

রাতের নামাজ ছুটে গেলে দিনে বার রাকআত পড়ার শিক্ষা

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/১৫৯

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا فاتته الصلاة من الليل من وجع أو غيره، صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة‏"‏ ‏(‏‏‏رواه مسلم‏‏‏)‏‏.‏

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ’আনহু হতে বর্ণিতঃ

আয়েশা (রাঃ)া বলেন যে, ’যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাতের নামায কোনো ব্যথা-বেদনা অথবা অন্য কোন কারণে ছুটে যেত, তখন তিনি দিনে বার রাকআত নামায পড়ে নিতেন।’[১] (মুসলিম)

মুসলিম ৭৪৬, তিরমিযী ৪৪৫, ৭৩৬, ৭৬৮, নাসায়ী ১৩১৫, ১৬০১, ১৬৪১, ১৬৪১, ১৬৫১, ১৭১৮, আবূ দাউদ ৫৬, ১৩৪২, ১৩৪৬, ১৩৫০, ১৩৫১, ইবনু মাজাহ ১১৯১, ১৩৪৮, ১৭১০, ৪২৩৮, আহমাদ ২৩৭৪৮, ২৪৭৮৯, ২৫৫২২, ২৫৬৮৭, ২৫৭৭৮

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/১৫৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর রাতের নামাজ ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোনো কারণে ছুটে গেলে তিনি দিনে বার রাকআত নামাজ পড়ে নিতেন। এখানে রাতের নামাজ ছুটে গেলে দিনের আমলের একটি উদাহরণ এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলে ধারাবাহিকতার প্রতি যত্ন দেখা যায়। কোনো কারণে রাতের নফল নামাজ বাদ পড়লে তিনি তা পুরোপুরি অবহেলা করতেন না; দিনের সময়ে পূরণ করতেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে আমল ছুটে গেলে হতাশ না হয়ে সুযোগমতো পূরণ করা ভালো। তবে এই শিক্ষা নফল আমলের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত। নিজের সাধ্য, শরীরের অবস্থা এবং সময় বুঝে আমল করা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ব্যথা বা অন্য কারণে রাতের আমল ছুটে যেতে পারে।
  • ছুটে যাওয়া নফল আমল সুযোগমতো পূরণ করা ভালো।
  • নবী صلى الله عليه وسلم নিয়মিত আমলের প্রতি যত্নশীল ছিলেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন