১৮/২৭৬. অধ্যায়ঃ
জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজি হারাম
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।(সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
ক্রয়-বিক্রয়ে নাজাশ নিষেধ: মিথ্যা দাম বাড়িয়ে ধোঁকা নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৫৮৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৫৮৯
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، نَهىَ عَنِ النَّجْشِ . متفق عَلَيْهِ
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
[তিনি বলেন,] ’নবী (ﷺ) [ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করার] দালালি করতে নিষেধ করেছেন।’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২১৪২, ৬৯৬৩, মুসলিম ১৫১৬, নাসায়ী ৪৪৯৭, ৪৫০৫, ইবনু মাজাহ ২১৭৩, আহমাদ ৫৮২৮, ৬৪১৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৩৯২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৫৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে নবী (صلى الله عليه وسلم) নাজাশ করতে নিষেধ করেছেন। নাজাশ হলো এমন দালালি, যেখানে প্রকৃত কেনার উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে প্রভাবিত করা হয়। এতে ক্রেতা মনে করে পণ্যের চাহিদা বা দাম বেশি, ফলে সে বেশি মূল্য দিতে রাজি হতে পারে। হাদিসটি খুব ছোট, কিন্তু ব্যবসায়িক নীতির বড় শিক্ষা দেয়। ইসলামে ক্রয়-বিক্রয় শুধু মুনাফার বিষয় নয়; এখানে সত্য, বিশ্বাস ও ন্যায় থাকতে হবে। বাজারে কৃত্রিম আগ্রহ দেখিয়ে দাম বাড়ানো মানুষের সম্পদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ। তাই বিক্রেতা, দালাল ও ক্রেতা—সবার উচিত লেনদেনে স্পষ্টতা ও সততা বজায় রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নাজাশ বা মিথ্যা দাম বাড়ানোর দালালি করা যাবে না।
- ক্রেতাকে ভুলভাবে প্রভাবিত করা ধোঁকার পথ খুলে দেয়।
- ব্যবসায় ন্যায় ও সত্য বজায় রাখা ইসলামী চরিত্রের অংশ।
- লেনদেনে কৃত্রিম চাহিদা দেখানো থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
