১৮/২৭৩. অধ্যায়ঃ

মুসলিমদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হারাম

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ﴾ [الحجرات: ١١]অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! একদল পুরুষ যেন অপর একদল পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাসকারী দল অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং একদল নারী যেন অপর একদল নারীকেও উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাস-কারিণী দল অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না; কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা [এ ধরনের আচরণ হতে] নিবৃত্ত না হয়, তারাই সীমালংঘনকারী।(সূরা হুজুরাত ১১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ﴾[الهمزة: ١]অর্থাৎ দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।(সূরা হুমাযাহ ১ আয়াত)

আল্লাহর ক্ষমা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়: জিহ্বার বড় সতর্কতা

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/১৫৮৪

وَعَنْ جُندُبِ بنِ عَبدِ الله رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «قَالَ رَجُلٌ : وَاللهِ لاَ يَغْفِرُ اللهُ لِفُلاَنٍ، فَقَالَ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ - : مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لاَ أَغْفِرَ لِفُلاَنٍ ! فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ» . رواه مسلم

জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’একজন বলল, ’আল্লাহর কসম! আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না ’ আল্লাহ আয্যা অজাল্ল্ বললেন, ’কে সে আমার উপর কসম খায় এ মর্মে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না। আমি তাকেই ক্ষমা করলাম এবং তোর [শপথকারীর] কৃতকর্ম নষ্ট করে দিলাম!’’(মুসলিম)[১]

মুসলিম ২৬২১

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/১৫৮৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এমন এক কথার ভয়াবহতা এসেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি কসম করে বলেছিল যে আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা সেই কথার জবাবে জানালেন, কে এমন যে তাঁর উপর কসম করে বলে তিনি কাউকে ক্ষমা করবেন না। এরপর আল্লাহ যাকে নিয়ে কথা বলা হয়েছিল তাকে ক্ষমা করলেন এবং শপথকারীর কাজ নষ্ট করে দিলেন। হাদিসটির শিক্ষা খুব গভীর। কারও শেষ পরিণতি বা আল্লাহর ক্ষমা সম্পর্কে বান্দা নিজের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কথা বলতে পারে না। মানুষের কাজ দেখে সতর্কতা বলা যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতের দরজা কার জন্য বন্ধ হবে—এ সিদ্ধান্ত বান্দার হাতে নয়। তাই জিহ্বা সামলানো, অহংকার থেকে বাঁচা এবং আল্লাহর ক্ষমাকে নিজের ধারণার মধ্যে আটকে না রাখা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কারও ক্ষমা হবে না বলে নিশ্চিত দাবি করা থেকে বাঁচতে হবে।
  • আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা সম্পর্কে বান্দার সীমা জানা দরকার।
  • কসম করে কঠিন কথা বলার আগে জিহ্বা সামলানো জরুরি।
  • অন্যের পরিণতি নিয়ে অহংকারপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিপদের কারণ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন