১৮/২৭১. অধ্যায়ঃ
অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান করা, অপরের অপছন্দ সত্ত্বেও তার কথা কান পেতে শোনা নিষেধ
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَ لَا تَجَسَّسُواْ﴾[الحجرات: ١٢]অর্থাৎ তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)আরও বলেন,﴿وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।(সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
প্রমাণ ছাড়া গোয়েন্দাগিরি নয়: স্পষ্ট হলে ব্যবস্থা নেওয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ৩/১৫৮০
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/১৫৮০
وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه: أَنَّهُ أُتِيَ بِرَجُلٍ فَقِيلَ لَهُ : هَذَا فُلاَنٌ تَقْطُرُ لِحْيَتُهُ خَمْراً، فَقَالَ: إنَّا قَدْ نُهِيْنَا عَنِ التَّجَسُّسِ، وَلَكِنْ إِنْ يَظْهَرْ لَنَا شَيْءٌ، نَأخُذْ بِهِ . حديث حسن صحيح، رواه أَبُو داود بإسنادٍ عَلَى شَرْطِ البخاري ومسلم
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট একটি লোককে নিয়ে আসা হল এবং তার সম্পর্কে বলা হল যে, ’এ লোকটি অমুক, এর দাড়ি থেকে মদ ঝরছে।’ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ’আমাদেরকে গোয়েন্দাগিরি করতে [গুপ্ত দোষ খুঁজে বেড়াতে] নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি কোন [প্রমাণ] আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমরা তা দিয়ে তাকে পাকড়াও করব।’(হাদিসটি হাসান সহীহ, আবূ দাঊদ)[১]
আবূ দাউদ ৪৮৯০
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/১৫৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তার সম্পর্কে বলা হলো, তার দাড়ি থেকে মদ ঝরছে। তখন ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, আমাদেরকে গোয়েন্দাগিরি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি কোনো বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমরা তা দিয়ে তাকে ধরব। এই কথায় ইসলামের একটি ভারসাম্য দেখা যায়। অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো ঠিক নয়। আবার প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে এলে তা উপেক্ষা করার কথাও বলা হয়নি। তাই মুসলিম সমাজে সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান ও অপমানের পথ বন্ধ রাখা দরকার। একই সাথে প্রকাশ্য অন্যায় স্পষ্ট হলে ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। হাদিসটি গোপনীয়তা, প্রমাণ এবং ন্যায় আচরণের সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
- সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে ধরার পথ গ্রহণ করা ঠিক নয়।
- স্পষ্ট প্রমাণ সামনে এলে তা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- ন্যায় আচরণে গোপনীয়তা ও প্রমাণ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
