১৮/২৬৭. অধ্যায়ঃ
মৃতদেরকে অন্যায়ভাবে শরয়ী স্বার্থ ছাড়াই গালি দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা
শরয়ী স্বার্থ হচ্ছে এই যে, কোন বিদআতী বা ফাসেক [অনাচারী] মৃত-ব্যক্তির বিদআত ও ফাসেকী কার্যকলাপে তার অনুকরণ করা থেকে সতর্কীকরণ। এ বিষয়ে পূর্বোক্ত পরিচ্ছেদে আয়াত ও হাদিসসমূহ উল্লিখিত হয়েছে।
মৃতদের গালি না দেওয়া: মুখের আদব ও সংযমের শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ১/১৫৭২
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/১৫৭২
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا» . رواه البخاري
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। যেহেতু তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।’’ [অর্থাৎ তার ফল ভোগ করছে।](বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ১৩৯৩, ৬৫১৬, নাসায়ী ১৯৩৬, আবূ দাউদ ৪৮৯৯, আহমাদ ২৪৯৪২, দারেমী ২৫১১
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/১৫৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মৃতদের গালি দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ যারা মারা গেছে, তারা এখন তাদের কাজের ফলের দিকে চলে গেছে। জীবিতদের কাজ হলো নিজের জিহ্বা সামলানো এবং অযথা গালি না দেওয়া। মৃত মানুষকে গালি দিলে সে নিজের পক্ষ থেকে উত্তর দিতে পারে না, আর এতে জীবিত মানুষের মুখও খারাপ কথায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। হাদিসটি আমাদের ভাষার আদব শেখায়। কারও ভুল জানা থাকলেও মৃত্যুর পর তাকে গালি দিয়ে নিজের জিহ্বাকে কলুষিত করা উচিত নয়। বরং নিজের পরিণতির কথা মনে রাখা এবং ভালো কথায় অভ্যস্ত হওয়া বেশি প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত মানুষকে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- প্রত্যেকে নিজের কৃতকর্মের পরিণতির দিকে যায়।
- মৃতের বিষয়ে কথা বলতেও জিহ্বা সংযত রাখা দরকার।
- অযথা গালি জীবিত মানুষের চরিত্রও নষ্ট করতে পারে।
