১৮/২৬৬. অধ্যায়ঃ
কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
কাউকে ফাসেক বা কাফের বলা: অপবাদের ভয়াবহ সতর্কতা
রিয়াদুস সলেহিন : ২/১৫৬৮
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ২/১৫৬৮
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ : «لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالفِسْقِ أَوِ الكُفْرِ، إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كذَلِكَ» . رواه البخاري
আবূ যার্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনি এ কথা বলতে শুনেছেন যে, ’’যখন কোন মানুষ অন্য মানুষের প্রতি ’ফাসেক’ অথবা ’কাফের’ বলে অপবাদ দেয়, তখনই তা তার উপরেই বর্তায়; যদি তার প্রতিপক্ষ তা না হয়।’’(বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৬০৪৫, মুসলিম ৬১, আহমাদ ২০৯৫৪, ২১০৬১
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ২/১৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অন্যকে ফাসেক বা কাফের বলে অপবাদ দেওয়ার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো মানুষ যদি অন্য মানুষকে ফাসেক বা কাফের বলে, আর সে ব্যক্তি বাস্তবে তেমন না হয়, তবে সেই কথা বলনেওয়ালার ওপরই ফিরে আসে। এই শিক্ষা আমাদের ভাষার দায়িত্ব বুঝতে সাহায্য করে। কারও ভুল দেখলেই তাকে বড় বড় অপবাদ দেওয়া ঠিক নয়। মানুষের ভেতরের অবস্থা ও প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া খুব গুরুতর বিষয়। তাই মুসলিমের উচিত কথা বলার আগে ভাবা, প্রমাণ ছাড়া কঠিন শব্দ ব্যবহার না করা এবং নিজের জিহ্বাকে অপবাদ থেকে রক্ষা করা। এই হাদিস গালি, অপবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অবিবেচক কথা থেকে সাবধান করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রমাণ ছাড়া কাউকে ফাসেক বা কাফের বলা বিপজ্জনক।
- ভুল অপবাদ বলনেওয়ালার দিকেই ফিরে আসতে পারে।
- মানুষের বিষয়ে কঠিন শব্দ ব্যবহারে সতর্ক হওয়া দরকার।
- জিহ্বা হেফাজত ঈমানদারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
